প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৫
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : প্রার্থীর চোখে ভবিষ্যৎ ফরিদগঞ্জ
ফরিদগঞ্জে ছোটখাট হলেও ইপিজেড গড়ে তোলা হবে
........ মো. হারুনুর রশিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৩ চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) থেকে জাতীয়তাবাদী
দল-বিএনরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন মো. হারুনুর রশিদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে বিএনপির খারাপ সময়ের এমপি। সে সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সংগত কারণে তিনি উন্নয়ন করতে পারেননি।
২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে কেমন ফরিদগঞ্জ গড়বেন সে বিষয়ে মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম ফরহাদের।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?
মো. হারুনুর রশিদ : আমিতো আশা করতেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হবোই।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?
মো. হারুনুর রশিদ : জনগণ আমাকে ভোট দেবে, কারণ আমি জনগণের জন্যে কাজ করেছি, অতীতে কাজ করেছি, এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। সামনে কী কাজ করবো তারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের গুরুত্ব কতোটুকু?
মো. হারুনুর রশিদ : 'হ্যাঁ' ভোটের, 'না' ভোটের গুরুত্ব আসলে এটা আমরা এলাকায় প্রচার প্রচারণা করতেছি। এলাকার মানুষের ওপর তো আমরা কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে পারি না। এলাকার মানুষকে বলতেছি, তারা যেটা সঠিক সেটাই সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমি মনে করি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে?
মো. হারুনুর রশিদ : গুণগতমান অবশ্যই পরিবর্তন হয়েছে। তার মানে হলো, গত ১৬/১৭ বছর কী হয়েছে সেটাতো আপনারা জানেন। আমরা অতীতের কথা বলতে চাই না, অতীতের কথা বললে বর্তমানের কথা বলা যাবে না। আমরা অতীতের কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। সামনের দিকে ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?
মো. হারুনুর রশিদ : আমি মনে করছি বাংলাদেশে একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা দরকার।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সমাজে প্রচলিত আছে-- জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতটুকু সত্য?
মো. হারুনুর রশিদ : কে প্রতিশ্রুতি ভুললো সেটা বড়ো কথা নয়, আমি আমার প্রতিশ্রুতির কথা ভুলিনি। অতীতে ভালো কাজ করেছি, সামনের দিকেও ভালো কাজ করবো। এটা আমি জোর গলায় বলতে পারি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও এখানে শিল্প উন্নয়ন বলতে তেমন কিছুই নেই। এ বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?
মো. হারুনুর রশিদ : পরিকল্পনা আছে এবং সেই আইটেমগুলো আমরা বলতেছি। আমাদের বেকার যুবক যুবতীদের জন্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার লক্ষ্যে বড়ো না হোক ছোটখাট ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। যাতে করে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন ধরনের শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা যায়। ফলে বেকাররা চাকরি করতে পারবে। যারা বিদেশ যাবে তাদের জন্যে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ করে বিদেশ পাঠালে তারা ডাবল ইনকাম করতে পারবে। এতে করে আমাদের রেমিট্যান্সেরও অভাব হবে না।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার বিজয়ের ক্ষেত্রে জনাব এম. এ. হান্নান বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
মো. হারুনুর রশিদ : আমি একটা দল করি, আমি একটা দলের প্রতিনিধিত্ব করি। একজন ব্যক্তি বড়ো কিছু করতে পারে না। বিষয়টি বোঝা যাবে নির্বাচনের ১০/১২ দিন আগে। একটা ব্যক্তি তার টুকটাক মানুষকে দিতে পারে, সেটা হলো সাময়িক, কিন্তু বছরকে বছর রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, মাদক, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন একটা সরকারই করতে পারে। একটা ব্যক্তির লিমিটেশন আছে। এটা মানুষ বুঝে যে, একটা ব্যক্তি কতোটুকু কাজ করতে পারে, একটা ব্যক্তির সোর্স অব ইনকাম কী? অতীতের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে মানুষ বিবেচনা করে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : ২০০৮ এবং ২০২৬ সংসদ নির্বাচনের মধ্যে বেশি কঠিন মনে হয় কোনটিকে?
মো. হারুনুর রশিদ : ২০০৮ তো ছিলো অন্যরকম। এটা ডে বাই ডে, এটার মানে হচ্ছে-- মেধা বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। ২০২৬-এর নির্বাচনে মোটামুটি অনেক মানুষ এবং ইয়াং জেনারেশনের জন্যে আমরা কী করবো, কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান অলরেডি অনেক প্যাকেজ তিনি বলছেন। সে প্যাকেজে আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। ইয়াং জেনারেশনের জন্যে ভালো কিছু হবে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।
মো. হারুনুর রশিদ : ওকে, থ্যাংক ইউ।








