প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৬
শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়

চাঁদপুর কণ্ঠের শাহরাস্তি ব্যুরো ইনচার্জ, সিনিয়র সাংবাদিক মো. মঈনুল ইসলাম কাজল গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে পরিবেশিত সংবাদে লিখেছেন, এক বছরে তিনবার উচ্ছেদ, তারপরও ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্ধারিত সম্পত্তিতে দখলদারিত্ব। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর সড়ক বিভাগ। উচ্ছেদের কিছু দিন না যেতেই কিছু অসাধু ব্যক্তি আবারো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শাহরাস্তি উপজেলার কালিয়াপাড়া বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে খাল দখল করে সড়কের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম খাল দখলের চেষ্টা করলে উপজেলা প্রশাসন তাকে নোটিস করলে তিনি মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান। ক’দিন পার না হতেই তিনি আবারও খাল ভরাট শুরু করেন। সড়ক বিভাগের অনুরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নেমে পড়েন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সড়কের জায়গা লিজ অথবা কাউকে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার জনগণ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে। তাই খালটি দখলমুক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, যারা উচ্ছেদের পর আবারো দখলের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এ নিয়ে তিনবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তারপরও একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সময়োচিত উচ্ছেদ অভিযানের জন্যে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। অতীতেও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গাসহ অবৈধ দখলের শিকার সরকারি জায়গা, খাল, মাঠ ইত্যাদি দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ করতেই হয়, হযরত শাহরাস্তি (রহ.)-এর মতো একজন বিখ্যাত পীরের নামে নামকরণকৃত শাহরাস্তি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসি-ল্যান্ড হিসেবে যাঁরাই নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশজনই দৃঢ়চেতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন হয়েছেন। এটা পীরের উসিলায় কিনা জানি না, এ উপজেলায় পদায়নকৃত ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের প্রায় সকলেই ভালো কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কামিয়েছেন। ক’জনতো শুধু জেলাব্যাপী নয়, পুরো দেশব্যাপী তাঁদের নৈতিকতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের জন্যে আলোচিত হয়েছেন। আবার যারা নিজের পদের মর্যাদা পুরোপুরি রক্ষায় সক্ষম হন নি, তারা নানাভাবে অপমানিত হয়েই বিদায় নিয়েছেন। আমরা মনে করি, শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের বর্তমান দু শীর্ষ কর্মকর্তা সুনাম-কামানো পূর্বসূরি কর্মকর্তাদের ন্যায়ই জনস্বার্থ রক্ষায় যে কোনো আইনি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে মোটেও পিছপা হবেন না। মহান সৃষ্টিকর্তা সর্বদা তাঁদের সহায় থাকুনÑনিরন্তর এ প্রত্যাশা করছি।




