বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮

লঞ্চ ভ্রমণ যেন বিলাসিতা

ড. আবদুস সাত্তার
লঞ্চ ভ্রমণ যেন বিলাসিতা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর দেশ হওয়ায় এখানে লঞ্চে ভ্রমণ খুবই জনপ্রিয়। লঞ্চ ভ্রমণ কেবল যাত্রা করার মাধ্যম নয়, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সুযোগ। ৩৩ বছর যাবত লঞ্চে উঠি না। অনেক দিনের সখ লঞ্চে চড়বো। আজ চাঁদপুর বড় স্টেশনে আসলাম ঘুরতে। তাই ভাবলাম লঞ্চ ভ্রমনের সুযোগটা এবার নিয়াই নিব। যখনই দেশে গিয়েছি প্রতিবারই ঝড় তুফান তাই আর যাওয়া হয়নি। এবার একটু ঠান্ডা ছিল তাই সখ পুরনের জন্য আজ চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে চলে আসলাম। লঞ্চ ঘাটে এসেই মাথা খারেপের মতো অবস্থা। একেক লঞ্চ ঘাটে ভিড়ছে আর আমি দেখছি। এ যেন লঞ্চ নয় মনে হয় ৫ তালা বিল্ডিং মতো বড়। লঞ্চে উঠার পর টিকেট কাউন্টারে বলে কি ধরনের রুম লাগবে আপনাদের। ঠঠওচ, ঠওচ, নরমাল রুম। পাশেই মনে হয় ম্যানেজার হবে,তিনি বললেন স্যার ঠঠওচ রুমটা দেই আপনাদেরকে? রুমে এয়ারকন্ডিশন আছে, টয়লেট আছে, সোফা আছে সাথে ডওঋও আছে । উনার কথায় রুম নিয়ে নিলাম। রুমে যেয়ে দেখি এ যেন পাঁচ তারা হোটেলের মতো বিছানা টেবিল।

আমার মনে হয় ১৯৯২ সালে উঠেছিলাম লঞ্চে। তখনকার লঞ্চগুলো একেবারে ছোট ছিল। তখন কেবিন বলতে ছোট্ট একটি রুম ছিল আর সবাই টেবিলে অথবা ফ্লোরে বসে যেত। অনেকে আবার ছাদেও বসে যেত। এখন আর সেই লঞ্চগুলো নেই।

কেবিন সার্ভিসের লোক এসে দরজা নক করে। দরজা খোলার সাথে সাথেই সে বলতে থাকে স্যার ভাত খাবেন? তাজা রুই মাছ, পাঙ্গাস মাছ, কাতল মাছ, পোয়া মাছ, গুড়া মাছ, ভরতা ও মুরগীর মাংস আছে। পোয়া মাছ দিয়ে ভাত খেলাম। আহ! কি যে স্বাদ! নদীর মাছ,নদীতে পাক আবার নদীতে বসে খাওয়া। সত্যি অন্যরকম এক ভালোলাগা। খাওয়া দাওয়া শেষে বিছানায় যেয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বলতেই পারব না। যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন প্রায় মোহনপুরের কাছাকাছি চলে আসছি। রুম থেকে বের হয়ে লঞ্চের সাইডে থাকা চেয়ারে বসে নদীর দুই পাশের সবুজ প্রকৃতি এবং ছোট ছোট গ্রামের দৃশ্য চোখে পড়ল। নদীর তীরে জেলেদের মাছ ধরা এবং ছোট নৌকার যাতায়াত ছিল আকর্ষণীয়। নদীর ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শ শরীরে লাগছিল। এটি ছিল মনোমুগ্ধকর ও শান্তির অনুভূতি। তারসাথে লঞ্চে বসে মাঝনদীতে সূর্যাস্ত দেখার সৌভাগ্য। নদীর জলে সূর্যের প্রতিফলন দেখে মন যেন ভরে গিয়েছিল। লঞ্চে যাতায়ত সময় একটু বেশী লাগে তারপর আমি প্রকৃতির সাথে এক নিবিড় মেলবন্ধন অনুভব করেছিলাম এবং আমাকে মুগ্ধ করেছিল নদীপথের সৌন্দর্য, লঞ্চের আরামদায়ক পরিবেশ, এবং যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত।

ড. আবদুস সাত্তার : ওয়াশিংটন ডিসি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়