প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪
এমন কঠিন শাস্তিতে বন্ধ হতে পারে অবৈধভাবে মাটি কাটা

‘মতলবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটায় ব্যবসায়ীর এক বছরের জেল ও লাখ টাকা জরিমানা’-সোমবার এমন শিরোনামের সংবাদ চাঁদপুর কণ্ঠে পড়ে অনেক পাঠক থমকে গেছে। কেননা এর আগে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে কাউকে চাঁদপুর জেলার কোথাও এতোটা কঠোর শাস্তি দেয়া হয় নি। এ সংবাদটিতে চাঁদপুর কণ্ঠের মতলব ব্যুরো ইনচার্জ রেদওয়ান আহমেদ জাকির লিখেছেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে মজিবুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের উপাদী গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জেল-জরিমানা প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুমতাহিনা পৃথুলা। জানা গেছে, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ ধারা ভঙ্গের অপরাধে এবং একই আইনের ১৫ ধারা মতে দোষী সাব্যস্তক্রমে তাকে আজ থেকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কৃষি জমিতে কিছু জায়গায় ৩ কোদাল ও কিছু জায়গায় ৭/৮ কোদাল মাটি কেটে কৃষি জমি গর্ত করে দীর্ঘদিন যাবৎ ইটের ভাটা ও নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের কাছে বিক্রি করছিলো মজিবুর রহমান। একাধিক কৃষক জানান, এভাবে মাটি কেটে বিক্রি করলে আমাদের পাশের জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে ও বৃষ্টির মৌসুমে জমি ধসে পড়াসহ কৃষি জমি ও ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুমতাহিনা পৃথুলা জানান, পূর্বে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও মজিবুর রহমান মাটি কাটা বন্ধ করেন নি। তাই কৃষি জমি থেকে অনুমতি ব্যতীত মাটি কাটার অপরাধে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কৃষি জমি সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ২০১০ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী মতলব দক্ষিণের মজিবুর রহমান উপর্যুপরি অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একই সাথে জরিমানার যে শাস্তি পেলেন, সেটা কিন্তু বিরল। আমরা এতোদিন এমন অপরাধে ৫০ হাজার, এক লাখ বা ততোধিক টাকা জরিমানা ও এক সপ্তাহ কারাদণ্ডের সংবাদ জেনেছি। এই প্রথম জানলাম এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার কথা। এমন জানাতে আমরা ভীষণ আশাবাদী। কেননা যে কোনো অপরাধের সর্বোচ্চ বা কঠোর শাস্তি যে সে অপরাধকে অনেক হ্রাস বা বন্ধ করে দিতে পারে, সেটার দৃষ্টান্ত আছে বহু। যেমন ২০০২ সালে এসিড অপরাধ দমন আইন প্রণীত ও কার্যকর হবার পর এসিড নিক্ষেপকারী যখন জানলো, এমন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, তারপর থেকে সারাদেশে এমন অপরাধের প্রবণতা অনেক কমে গেছে, এমনকি বিরল হয়ে গেছে বলা চলে। একইভাবে অবৈধ পন্থায় মাটি কাটার দায়ে যদি সর্বোচ্চ শাস্তি দু বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ জরিমানা দশ লাখ টাকাকে সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকল চাপ, প্রভাব ও ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কার্যকর করতে থাকেন, মাটি পরিবহন কাজে অবৈধভাবে চলাচলকারী ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাগাতার ব্যবস্থা নিতে থাকে, তাহলে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা ব্যাপকভাবে হ্রাস ও বন্ধ না হয়ে পারবে না বলে আমরা মনে করি।



