বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬

খেলার মাঠ গরুর বর্জ্যের দখলে

সোহাঈদ খান জিয়া
খেলার মাঠ গরুর বর্জ্যের দখলে

দেখলে মনে হয়, গরুর ফার্মের প্রয়োজনে তৈরি করা একটি বিশালাকৃতির গর্তে গরুর বর্জ্য ভরপুর হয়ে আছে। পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আসলে তা নয়। গর্তটি হচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠের জায়গা। বিদ্যালয়টি হচ্ছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজ গাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঠিক দায়িত্ব পালন ও পরিশ্রমের কারণে অবহেলিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি শিক্ষার মানোন্নয়নে এগিয়ে গেলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাঠ ভরাট না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে।

উপর্যুপরি বিদ্যালয়ের পাশে নাজির গাজীর গরুর ফার্মের বর্জ্য সরানোর জন্যে যে ড্রেন করে দেওয়া হয়েছে, সেই ড্রেন দিয়ে বর্জ্যগুলোতে বিদ্যালয় মাঠের জায়গা ভরে গেছে। বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান করতে হয় বর্জ্যের দুর্গন্ধ সহ্য করে। এতে বিদ্যালয়টিকে পাঠদান করাসহ নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আশেপাশের বাড়িঘরে বসবাস করতেও লোকজনের সমস্যা হচ্ছে।

বিদ্যালয় মাঠে বর্জ্য না ফেলার জন্যে খামারি নাজির গাজীকে বলা হলেও তিনি আজ না কাল সরানো হচ্ছে বলে থাকেন। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ শেষ হয়ে গেলেও বর্জ্য সরানো হচ্ছে না। বিদ্যালয় মাঠ রক্ষায় প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করাসহ অনেকের দ্বারস্থ হয়েও কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন ক'জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, নাজির খান দীর্ঘদিন ধরে গরুর ফার্মের বর্জ্যগুলো সরাতে বিদ্যালয় মাঠের দিকে ড্রেন করে দেন। এতে গরুর বর্জ্যে মাঠ ভরপুর হয়ে যায়, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বর্জ্যের গন্ধে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও আশপাশের লোকজন অসুস্থ হবার উপক্রম হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অভরাটকৃত খেলার মাঠ গরুর বর্জ্যে ভরপুর হয়ে আছে। দুর্গন্ধে সেখান দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যা দেখে মনে হচ্ছে, বর্জ্যগুলো যে গর্তে রয়েছে সেই গর্তটি গরুর মালিক নিজ প্রয়োজনে করে সেখানে বর্জ্য ফেলছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাফছা আক্তার বললেন, গরুর বর্জ্য সরানোর জন্যে নাজির গাজীকে বলেছি। তিনি ১ সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। ১ সপ্তাহের মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কার করে দেবেন বলে জানান। স্কুলের মাঠ ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করতে বিভিন্ন দপ্তরে জানানো সহ আবেদন করেছি। মাঠ ভরাট একান্ত জরুরি। মাঠ ভরাট না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ব্যাপারে নাজির গাজী বলেন, গর্তটা আমার না, বিদ্যালয়ের জায়গায়। আমি ১০/১২ দিনের মধ্যে জায়গাটা পরিষ্কার করে দেবো।

এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে ময়লা পড়ে আছে। প্রধান শিক্ষিকাকে বলেছি বিদ্যালয় মাঠ ১ সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার করার জন্যে। মাঠ ভরাট করার জন্যে কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অবহিত করেছেন। আগের উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্যারকে মাঠ ভরাটের জন্যে অবহিত করেছি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। এ বিষয়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক, চাঁদপুর থেকেও আমাকে জানানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়