প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২০
লক্ষ্মীপুর-২ আসন (রায়পুর-সদর একাংশ)
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীর টার্গেট দুই লক্ষ্য নারী ভোটার !

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনই পথসভা ও উঠান বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। তারা নিত্য নতুন প্রচার কৌশলেও এগিয়ে। ২৭৫ নাম্বার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের (রায়পুর-সদর অংশে) জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী কৌশল নির্ধারণের জন্যে নারী ভোটারের সংখ্যা আর গতিপ্রবণতার হিসাব নিকাশ করে দেখছে তারা। এবারের নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে তরুণদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের পক্ষে আনতে সক্রিয় এই দু দলের প্রার্থীর হাজারও কর্মী-সমর্থক।
|আরো খবর
এদিকে নির্বাচনী পথসভায় উভয় দলের নেতা-কর্মীরা লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়ছে। কেননা জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রায়পুর আসনেই। মোট ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন ও পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন । আর নারী ভোটারই ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫২৭ জন এবং ১৫১ কেন্দ্র রয়েছে।
প্রতিদিনই রায়পুর উপজেলা-সদর অংশের ৯টি ইউনিয়নে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও পথসভা করছেন দুই প্রার্থী। অপরদিকে তাদের নারী কর্মী ও সমর্থকরা ৪ লাখ ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছে। আবার এ ভোট চাইতে গিয়েও কেরোয়া, বামনী, সোনাপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে বিতর্ক এবং বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে দুই দলেরই অভিযোগ।
নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের বড় অংশকে পক্ষে আনতে পারলেই বিজয় সুনিশ্চিত এমন চিন্তা থেকে দলগুলো পরিচালনা করছে তাদের প্রচার কার্যক্রম। তরুণদের পাশাপাশি নারীদের উন্নয়নে, তাদের কল্যাণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ভোটারদের সামনে সেসব পরিকল্পনা তুলে ধরছে নেতারা। এদিকে এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অবস্থানের বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারীর প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘিরেও নারী ভোট পাওয়ার জন্যেও চলছে বিশেষ প্রচারাভিযান।
প্রতিদিনই বিএনপি ও জামায়াতের দু প্রার্থীর উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে বাক্যবিনিময়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী আবুল খায়ের ‘ভূঁইয়া’ ও একিউএম রুহুল আমিন ভুইয়াসহ তাদের নেতাদের। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বিষয়টি ‘দুই ভূঁইয়ার লড়াই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দু প্রার্থীর কাছে ভোটারদের দাবির মধ্যে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন রোধ, ৫০ শয্যার রায়পুর সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, এশিয়া মহাদেশে বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জনবল নিয়োগসহ নানা সংকট দূরীকরণ, গ্যাসের লাইন সংযোগ ও পর্যটন কেন্দ্র যিনি করে দিবেন তাকেই ভোট দেবেন তারা।
রায়পুরের এই সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিনবারের সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। এ ছাড়াও রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাও. হেলাল উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের আবুল বাশার, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. ইব্রাহিম মিয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. ফরহাদ মিয়া ও নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
শহর ও গ্রামের কয়েকটি স্থানের স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, দুই দলের পরিচিত ও প্রভাবশালী দু প্রার্থীর লড়াইয়ে এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রার্থীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, আমি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়েই রাজনীতি করি। রায়পুর ও সদর অংশের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষা, গ্যাস ও শিল্পাঞ্চলের জন্যেই আমি কাজ করতে চাই। এই আসন বিএনপির ঘাঁটি, তৃণমূলের ঐক্য ও জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা অবশ্যই জয়ী হবো। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করবো। নির্বাচন আমাদের জন্যে শুধু ভোটের লড়াই নয়—এটা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। আমি চাই, মানুষ যেন মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে। জনগণের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল থাকবো।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণে ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতির লক্ষ্য কখনো ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
এ আসনে জামায়াতের সংগঠন খুবই শক্তিশালী। তরুণ প্রজন্ম আমাদের পাশে আছে। জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তন করতে পারবো।








