শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪

শত ব্যস্ততার মাঝেও চন্দ্রনাথধাম-বাঁশবাড়ীয়ায় অন্যরকম একদিন কাটালেন কুমিল্লার সনাতনী আইনজীবীরা

তাপস চন্দ্র সরকার
শত ব্যস্ততার মাঝেও চন্দ্রনাথধাম-বাঁশবাড়ীয়ায় অন্যরকম একদিন কাটালেন কুমিল্লার সনাতনী আইনজীবীরা

'চলো না ঘুরে আসি চন্দ্রনাথ ধাম' এ শ্লোগান সামনে রেখে শত ব্যস্ততার মাঝেও আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির জন্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ও পবিত্র তীর্থস্থান চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধাম ও বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকতে অন্যরকম একদিন কাটালেন কুমিল্লা বারের সনাতন ধর্মাবলম্বী আইনজীবীরা।

গেলো একুশে জানুয়ারি বুধবার দুপুর বেলা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র তীর্থভূমি চন্দ্রনাথধাম দর্শন শেষে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে আনন্দ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সময় বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা বার শাখার কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সজল চন্দ্র পালকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা বার শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট 'তীর্থযাত্রা উপকমিটি-২০২৬' গঠনসহ রেজিস্ট্রেশন ফি জনপ্রতি ১,০০০/- টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই উপকমিটির অন্যরা হলেন : অ্যাডভোকেট প্রেমানন্দ গোস্বামী, অ্যাডভোকেট মোহন কৃষ্ণ পাল, অ্যাডভোকেট সীমান্ত বিশ্বাস ও শিক্ষানবিশ অ্যাডভোকেট কিংকর দেবনাথ।

ওই তীর্থযাত্রা উপকমিটিকে অনুমোদন দেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী বাবু।

সনাতনী আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এক এক করে রেজিস্ট্রেশন করেন ৩০জন। তীর্থযাত্রা উপকমিটির সাথে সমন্বয় করতে অ্যাড. সুবীর নন্দী বাবু 'তীর্থযাত্রা-২০২৬' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেন।

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে মোবাইলে সাড়ে ৪টায় এলার্ম দিয়ে রাখি। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে ৪টায় পৌঁছামাত্রই এলার্ম বাজতে শুরু করে। তারপর ঘুম থেকে উঠে স্নান শেষে 'তীর্থযাত্রা' গ্রুপে কল দেই। কিছুক্ষণ পর অ্যাড. রতন দাদা আমাকে মোবাইল করে বলেন, আমি ৬টার আগেই টাউন হল মাঠে চলে যাবো। এর কিছু সময় পর অ্যাড. কৌশিক সরকার আমাকে মোবাইল করে বলেন, আমি যেতে পারবো না। কারণ আমার সন্তানের প্রচণ্ড জ্বর এসেছে। বিষয়টি আহ্বায়ক সজল পালকে অবহিত করে আমি ট্রাভল ব্যাগটি হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। তখন ভোর পৌনে ৬টা বাজে। বের হয়ে কালিয়াজুরী থেকে অটোরিকশা যোগে টাউনহলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে অ্যাড. পলাশ দাদাকে ওনার বাসার সামনে থেকে অটোরিকশাতে নিয়ে নেই। সকাল ৬টার সময় টাউন হলে প্রবেশ করেই দেখি অ্যাড. রতন চন্দ্র দাস ও অ্যাড. সীমান্ত বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে তাকিয়ে দেখি সকালের নাস্তা চলে এসেছে। এরপর এক এক করে টাউন হল মাঠে জড়ো হতে থাকে সকলে। সোয়া ৬টার মধ্যে ভাড়া করা হাইএসও চলে আসে টাউন হল মাঠে। এরপর তালিকা অনুসারে একেক করে গাড়িতে উঠতে থাকেন। অ্যাডভোকেট দোলন দাদা নির্ধারিত সময়ে টাউন হলে আসতে না পারায় আরো ২০ মিনিট অপেক্ষা করে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাড. দোলন দাদা মোবাইল রিসিভ না করায় আমরা ওনার সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করি। সম্ভবত আমরা মহিপালের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র অ্যাড. দোলন দাদা আমাকে মোবাইল করে বলেন, দশ মিনিটের মধ্যে বের হয়ে বাসযোগে আসতেছি। ততক্ষণে মহিপাল অতিক্রম করে ফেনী লালপুর স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে সকালের নাস্তা খেয়ে সরাসরি চন্দ্রনাথ ধামের উদ্দেশ্যে চলে যাই ইকোপার্কে। তখন বাজে সকাল ৯:৪০। ওখানে গিয়ে অ্যাড. পলাশ ও অ্যাড. সজল দাদা আর আমি গাড়ি থেকে নেমে কাউন্টারে কথা বলে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০/- টাকা এবং প্রতি গাড়ি ৫০০/- করে টিকেট কেটে গাড়ি নিয়ে চলে যাই সহস্রধারা'র কাছে। সেখানে গিয়ে গাড়ি পরিবর্তন করে প্রতি সিএনজি রিজার্ভ ৫০০/- টাকা করে ৬টি সিএনজি ভাড়া নিয়ে চন্দ্রনাথ ধামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। রাস্তা সংস্কারের কাজ চলমান থাকায় কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সিএনজি থেকে নেমে হেঁটে হেঁট গন্তব্য স্থান চন্দ্রনাথ মন্দিরে পৌঁছি। তখন বাজে সকাল ১০টা। ওখানে পৌঁছে সবাই কিছুক্ষণ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে বিশ্রাম করে মন্দিরে প্রবেশ করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে এ স্মৃতি ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে সেলফি, গ্রুপ ছবি তুলে নেই। এর মধ্যে সজল পালের কালো সানগ্লাসটি হারিয়ে যায়। আমি শুনেই বলে উঠি, যা করে ঠাকুর ভালোর জন্যেই করে। এ নিয়ে কিছুক্ষণ খুনসুটি করি। এরপর পলাশ দাদার নেতৃত্বে আমরা ১৪জন আর সনজিবন দাদার নেতৃত্ব বাকিরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পলাশ দাদার টীম গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলে আসি ভবানী মন্দিরে আর সনজীবন দাদার টীম চলে যায় অন্য পথে পাতাল কালী মাতা মন্দিরে। যখন আমরা ভবানী মন্দিরে গাড়িযোগে চলে আসি তখন ঘড়িতে ঠিক ১২টা ৪৫ বাজে। সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে চলে আসি আমার গুরুধাম শঙ্কর মঠে। ওখানে অ্যাড. স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ দাদার আয়োজনে দুপুরবেলা প্রসাদ আস্বাদনের পর ঘন্টাখানেক বিশ্রাম করে বিকেল ৪টায় শঙ্করমঠ থেকে রওনা হয়ে সাড়ে ৪টায় চলে আসি সমুদ্র সৈকত বাঁশবাড়ীয়া। সেখানে যে যার যার মতো ঘোরাঘুরি করি। এ স্মৃতি ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে সেলফি, গ্রুপ ছবি তুলে নিলো। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে পলাশ দাদা, গৌতম স্যার ও সনজীবন দাদা সমুদ্রের ছোট্ট ছোট্ট চিংড়ি মাছ কিনলেন। গাড়িতে করে মাছ নিতে রাজি হননি ড্রাইভাররা। এরপর অ্যাড. পলাশ দাদার অনুরোধে ড্রাইভার মামুন ভাই সকলের মাছ গাড়িতে নিয়ে নেন। সত্যি মামুন ভাই একজন মানবিক ড্রাইভার। এরপর কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। অ্যাড. পলাশ দাদা গাড়িতে আয়-ব্যয় হিসাবনিকাশ মিলানোর পর অ্যাড. পলাশ দাদা হঠাৎ বলে উঠেন, আমরা ডিনার করবো স্যার। এ কথা শুনে প্রমোদ স্যার বলেন, কুমিল্লায় ডিনারের ব্যবস্থা করো পলাশ। তাৎক্ষণিক পলাশ দাদা মোবাইলে কুমিল্লা ছন্দু হোটেলের মালিকের সাথে যোগাযোগ করে ২৫জনের খাবারের ব্যবস্থা করেন। খাবারের ম্যানু ছিলো চিকন চালের ভাত, আলু ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, সবজি, মুরগির রোস্ট ও ডাল, সাথে এক কাপ দধি। ডিনারের বাদ বক্রী খরচ বহন করেন অ্যাড. গৌতম দাদা ও অ্যাড. দোলন দাদা। নৈশভোজ শেষে গাড়িগুলো রাত সোয়া ৯টায় কুমিল্লা টাউনহল মাঠে এসে পৌঁছে। তারপর সবাই সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যার যার মতো করে বাসায় চলে যান। সময় চলে যায়, তবে স্মৃতিগুলো থেকে যায় আজীবন। তেমনি চন্দ্রনাথধাম-বাঁশ বাড়ীয়া ভ্রমণের স্মৃতিগুলো মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে আজীবন। হয়তো আবার স্মৃতিচারণ করে ঘুরে বেড়াবো অন্য কোথাও। ভ্রমণ মানুষের মনকে করে প্রশস্ত, হৃদয়কে করে বিস্তৃত, আর আমাদের কল্পনার জগৎকে করে আরও সমৃদ্ধ। তাই বাস্তব জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যে কিংবা সবকিছু থেকে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্যে দূরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি আশা করি, আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। গেলো বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তীর্থ দর্শন ও দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা। শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করতে এ আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনটি বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা বার শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি সফল মিলনমেলা ছিলো। এ আয়োজন সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তারা হলেন : অ্যাড. স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, অ্যাড. সুবীর নন্দী বাবু, অ্যাড. সজল চন্দ্র পাল, অ্যাড. প্রেমানন্দ গোস্বামী, অ্যাডভোকেট মোহন কৃষ্ণ পাল ও অ্যাড. সীমান্ত বিশ্বাস। তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আর নানা কারণে যাঁরা অংশ নিতে পারেননি তাদেরকে আমরা মিস করেছি। আশা করছি তাঁরা আগামী অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন।

একদিনের তীর্থ ভ্রমণ ও আনন্দ ভ্রমণে অংশ নেন কুমিল্লা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রমোদ রঞ্জন ভৌমিক, অ্যাডভোকেট গৌতম কুমার রায়, অ্যাডভোকেট রতন কুমার দাস, অ্যাডভোকেট প্রহ্লাদ দেবনাথ, অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী বাবু, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার দেব, অ্যাডভোকেট নবেন্দু বিকাশ সর্বাধিকারী দোলন, অ্যাডভোকেট রতন চক্রবর্তী অন্তর, অ্যাডভোকেট সনজীবন পাল, অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, অ্যাডভোকেট অমিতাভ ঘোষ, অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত পাল, অ্যাডভোকেট দীলিপ কুমার দেবনাথ, অ্যাডভোকেট প্রেমানন্দ গোস্বামী, অ্যাডভোকেট মোহন কৃষ্ণ পাল, অ্যাডভোকেট সীমান্ত বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট হৃদয় সাহা ও অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমার ঘোষ এবং শিক্ষানবিশ অ্যাডভোকেট কিংকর দেবনাথ, কিশোর দাস, কালীপদ দেবনাথ ও স্বপন কুমার দেবনাথ। এছাড়াও অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়ের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তাপস কুমার নাহা।

যে সকল আইনজীবী রেজিস্ট্রেশন করেও নানাবিধ কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি তাঁরা হলেন : অ্যাডভোকেট কৌশিক সরকার, অ্যাডভোকেট সুমন আচার্য্য, অ্যাডভোকেট উত্তম মজুমদার, অ্যাডভোকেট অনিকেত রায় নন্দী, অ্যাডভোকেট বলরাম চক্রবর্তী অপু ও অ্যাডভোকেট আশীষ কুমার ভৌমিক।

তীর্থ ভ্রমণ : তীর্থ ভ্রমণ মানুষের জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল ভ্রমণ নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য মাধ্যম। যুগ যুগ ধরে মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আত্মিক শান্তির খোঁজে বিভিন্ন তীর্থস্থানে ভ্রমণ করে আসছে। তীর্থ ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষ বিশ্বাস করে, তীর্থস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করলে পাপ মোচন হয় এবং মনে শান্তি আসে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তীর্থ ভ্রমণ অত্যন্ত সহায়ক। ভক্তরা সেখানে উপবাস, প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করেন। তীর্থ ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, একে অপরের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ মেলে। এতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তবে তীর্থ ভ্রমণের সময় কিছু দায়িত্ব পালন করা জরুরি। যেমন : পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। ভিড় বা অযথা বিশৃঙ্খলা তীর্থ ভ্রমণের পবিত্রতা নষ্ট করে।

বলা যায়, তীর্থ ভ্রমণ মানুষের আত্মিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি মানুষকে নৈতিকতা, সংযম ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। সঠিক মনোভাব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তীর্থ ভ্রমণ করলে জীবনে সত্যিকারের শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করা যায়।

আনন্দ ভ্রমণ :

বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত একটি শান্ত ও মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্থান। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্গত এই সৈকতটির কোলাহলমুক্ত পরিবেশ ও নীল সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য যে কোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন কেড়ে নেয়। দূর থেকে সমুদ্রের গর্জন ও নোনা বাতাসের স্পর্শ আমাদের মনে এক অদ্ভুত আনন্দ জাগিয়ে তোলে। সৈকতে পৌঁছেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা আর ছুটে আসা ঢেউয়ের সারি। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে নেই অতিরিক্ত হোটেল, দোকান বা জনসমাগম। তাই সমুদ্রের নীল জল, আকাশের বিশালতা আর ঢেউয়ের ছন্দ খুব কাছ থেকে অনুভব করা যায়। আমরা বালিতে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর ঢেউয়ের ওঠানামা উপভোগ করছিলাম। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে আমরা ছবি তুললাম ও সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে নিলাম।

সৈকতের আশপাশে জেলেদের নৌকা ও শুকোতে দেওয়া মাছের দৃশ্য ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা এনে দেয়। স্থানীয় মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন আমাদের ভালো লেগেছে। প্রকৃতির নীরবতায় মন ভরিয়ে নিই। দিনের শেষ ভাগে সূর্যাস্তের দৃশ্য ছিলো সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর। লালচে আকাশের পটভূমিতে ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়া সূর্য সমুদ্রকে সোনালি রঙে রাঙিয়ে দেয়। সেই দৃশ্য আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যে এক আদর্শ ভ্রমণস্থান। যারা কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই সৈকত নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার গন্তব্য।

লেখক পরিচিতি: অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, সদস্য সচিব : তীর্থযাত্রা উপকমিটি ২০২৬ বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা জেলা বার শাখা। মোবাইল ফোন : 01846-392055

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়