বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৩

'আইনজীবী নেতাদের বেআইনি আবদার রক্ষা না করায় আদালত বর্জন'

আইনজীবী ছাড়াই বিচার কার্যক্রম চলছে চাঁদপুর আদালতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
'আইনজীবী নেতাদের বেআইনি আবদার রক্ষা না করায় আদালত বর্জন'

চাঁদপুরের তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আদালত প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন মামলার প্রয়োজনে বিচারপ্রার্থীরা এসে বিচারকক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন। দুপুরের পর আদালতের বিচারকরা বিচারিক কার্যক্রম শুরু করলেও আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক মামলার শুনানি পিছিয়ে গেছে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি আইনি সহায়তার অভাবে তাঁদের স্বাভাবিক ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কর্মসূচি বহাল থাকায় চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. ফখরুদ্দিন স্বপন।

মামলার কাজে আসা এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দূর থেকে সকাল সকাল টাকা-পয়সা খরচ করে আদালতে এসেছি। কিন্তু আদালতে এসে শুনি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছেন। সকালে আইনজীবীরা আমাদের কাছ থেকে ফি নিয়ে নিয়েছেন, এখন শুনি মামলার শুনানি করবেন না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষই দিনশেষে বিপদে পড়ে।" এ বিষয়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সমাধান চান, যাতে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলে এবং তারা বিচার বিভাগীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের আদালতসমূহে তীব্র বিচারক সংকট ও এজলাস সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিচারকরা একাধিক কোর্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং অনেক সময় রাতেও কোর্ট পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরকম একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে বার ও বেঞ্চের এই বিরোধের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। এ অচলাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষেরই দ্রুত সমন্বয়ের প্রত্যাশা সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের।

সূত্রে আরও জানা যায়, জামিন আবেদনে সভাপতি, সেক্রেটারি ও পিপি-কে পূর্বেই অবগত করানোর বিষয়কে উপজীব্য করে এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা শুনানিতে আইনজীবী নেতাদের বেআইনি আবদার রক্ষা না করায় আজ তিনটি কোর্ট বর্জন করেন তাঁরা। মূলত আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পেরেই আইনজীবী নেতারা মূল ঘটনাকে আড়াল করতে এই বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আইনজীবী সমিতির একাংশের আইনজীবীরা সাধারণ সভা করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, চাঁদপুর সদর বর্জনের ঘোষণা দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, সভার শুরুতেই তাদের কাছ থেকে জোর করেই স্বাক্ষর আদায় করা হয়। একই সভাস্থলে তাঁরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা প্রশাসকের অধীনস্থ আদালতসমূহও বর্জনের হুমকি দেন। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ কিছু আইনজীবী শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোর করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

আদালত বর্জনের আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও এভাবে ঘোষণা দিয়ে আদালত বর্জনের এই নজিরবিহীন ঘটনায় আদালতপাড়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।

এদিকে আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের সাথে কিছু বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় তারা কয়েকটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতারা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়