বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

সাক্ষাৎকার : মো. সেলিম সরকার

শৈশব থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
শৈশব থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা করতে হবে

মো. সেলিম সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চাঁদপুরের উপপরিচালক। ২০০১ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগ দেওয়ার পর নরসিংদী, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে চাঁদপুরে কাজ করছেন তিনি। মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিশুদের নৈতিক শিক্ষা জোরদার করতে প্রতিটি মসজিদে মক্তব শিক্ষা চালু করা জরুরি। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও সমাজের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

আপনার ছাত্রজীবনের দিনগুলো কেমন ছিল?

মো. সেলিম সরকার : আমার ছাত্রজীবন ছিল খুবই সুন্দর। তখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও সমাজ—সবাই শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আমরা স্কুলকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করতাম এবং শিক্ষকদের বাবা-মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। একে অন্যকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করতাম, শিক্ষকরাও সহযোগিতা করতেন। তখন আমরা প্রাইভেট পড়তাম না। ১৯৮৮ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হই। তখন প্রথম বিভাগে পাস করা ছিল অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। পড়াশোনাকে আমি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করতাম। কেউ স্কুলে না গেলে শিক্ষকরা তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন। তখন তো মোবাইল ফোনও ছিল না।

আপনার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে কার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ?

মো. সেলিম সরকার : আমার বাবার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। বাড়িতে এলে আমার পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, প্রয়োজনে প্রাইভেট শিক্ষক লাগবে কি না—এসব খোঁজ নিতেন। তিনি সবসময় চাইতেন আমি যেন জীবনে ভালো অবস্থানে যেতে পারি। আমার বাবা ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মারা যান। আমি তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমার মা-বাবার দোয়া এবং বাবার অনুপ্রেরণা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে বাবার ভূমিকাই মুখ্য। সেই সাথে জীবনের নানা সংকটে আমার স্ত্রী আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো ঐতিহ্যবাহী ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে আপনার কর্মজীবন শুরু হলো কীভাবে? সেই গল্পটি শুনতে চাই।

মো. সেলিম সরকার : ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য কাজ করা যায়। আমি নিজে ওয়াজ-মাহফিলে বক্তা হতে পারিনি। তাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানুষের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা ও কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমি ৪ মার্চ ২০০১ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগ দিই। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে কাজ করেছি। তার আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফ-উল-হক হলে কাজ করেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে প্রথম পদায়ন হয় নরসিংদীতে। পরে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, আবার ঢাকা হয়ে বর্তমানে চাঁদপুরে দায়িত্ব পালন করছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চাঁদপুরের উপ-পরিচালক হিসেবে বর্তমানে আপনার মূল দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

মো. সেলিম সরকার : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা আমাদের দায়িত্ব। চাঁদপুরে ১ হাজার ২৪০টি কেন্দ্র ও ১ হাজার ২৪০ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ ছাড়া ১৯টি মাদ্রাসায় দারুল আরকাম প্রকল্পের কার্যক্রম রয়েছে। মসজিদভিত্তিক পাঠাগারসহ আরও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বড় একটি জনবলকে সঠিকভাবে তদারকি করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না এবং মানুষ সঠিক সেবা পাচ্ছে কি না—এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হয়।

চাঁদপুরে যোগদানের পর এখানকার মাটি, মানুষ ও ধর্মীয়-সামাজিক পরিবেশের সাথে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন?

মো. সেলিম সরকার : চাঁদপুরের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপ্রবণ। দায়িত্ব পালনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাচ্ছি। চাঁদপুর অফিস একসময় একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিকট জিম্মি ছিলো। পরে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এবং প্রধান কার্যালয়ের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন মাহিন মহোদয় এবং অফিসের বিদ্যমান সহকর্মীদের সহযোগিতায় অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। এছাড়া বর্তমানেও আমি তাঁদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা পাচ্ছি।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম আমাদের সমাজে নৈতিকতা ও প্রাথমিক শিক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?

মো. সেলিম সরকার : এই কার্যক্রম শিশুদের কোরআন শিক্ষা, আদব-কায়দা, বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। আমি মনে করি, নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা কমাতে এ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রতিটি মসজিদে মক্তব শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। মুসলিম শিশুদের কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেক ধর্মের শিশুদের নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।

আদর্শ সমাজ গঠনে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে আপনাদের কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে?

মো. সেলিম সরকার : ইমামদের জন্য ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে ৪৫ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সারা বছরই এ প্রশিক্ষণ চলে। এতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি গবাদিপশু পালন, কৃষি, বন, মৎস্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরিমাপের মতো বিষয়েও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক ইমাম নিজেরাই ফার্মেসি, মৎস্য, কৃষি, গবাদিপশু বা বনভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া চাঁদপুরে ৯৬ জন ইমাম, ৯৫ জন মোয়াজ্জিন ও ৯৪ জন খাদেমসহ মোট ২৮৫ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইমামকে ৫ হাজার, মোয়াজ্জিনকে ৩ হাজার এবং খাদেমকে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণে সম্প্রতি কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে?

মো. সেলিম সরকার : চাঁদপুরে আমাদের ৩৯টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। কর্মদিবসে গড়ে দুটি করে প্রশিক্ষণ বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম হয়। প্রতিটি কার্যক্রমে ৩০ থেকে ৪০ জন অংশ নেন। মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমসহ নানা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়। প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ ও মনিটরিং সভা হয়। বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। বন্যা, মহামারি কিংবা বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির সময় জুমার খুতবার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতেও আমরা কাজ করি।

আমাদের সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করছেন?

মো. সেলিম সরকার : ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখার জন্যে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের সমন্বয়মূলক কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে। মসজিদের খুতবায়ও সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।

আজকের তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের চর্চা কীভাবে বাড়ানো সম্ভব?

মো. সেলিম সরকার : শৈশব থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সমাজ—সব জায়গা থেকে শিশু-কিশোরদের সঠিক মূল্যবোধ শেখাতে হবে। বিশেষ করে মক্তব শিক্ষা আবারও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তরুণদের মাদক, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও বই পড়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও উদার বাণী মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে আপনাদের দিক থেকে কী ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়?

মো. সেলিম সরকার : ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কোরআন-হাদিসের সঠিক শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনী, তাফসির, বুখারি শরিফ, ইসলামী বিধিবিধান, সাহাবিদের জীবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বই প্রকাশ করা হয়। মসজিদে পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাঠাগারে কোরআন, তাফসির, নবীজির জীবনী ও সাহাবিদের জীবনীসহ বিভিন্ন বই রয়েছে। চাঁদপুরে সাধারণ রিসোর্স সেন্টার ও পাঠাগারও রয়েছে। সেখানে সংবাদপত্র ও বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ আছে। গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো— বর্তমানে তরুণদের একটি বড় অংশ মোবাইলে অনেক সময় ব্যয় করে। তাদের বই পড়া ও পাঠাগারমুখী করতে পারলে অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে এবং নানা সামাজিক অপরাধ থেকেও তারা দূরে থাকতে পারবে।

আপনার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে চাঁদপুরে বা এর আগে কাজ করার সময় এমন কোনো হৃদয়গ্রাহী ঘটনা ঘটেছে যা আজও আপনার মনে দাগ কেটে আছে?

মো. সেলিম সরকার : আমার কর্মজীবনে কষ্টের যেমন ঘটনা আছে, তেমনি কিছু ঘটনা আজও হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। ২০১২ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগে থাকাকালে পদোন্নতির প্রত্যাশা ছিল। আমার সিনিয়রিটি তালিকায় অবস্থান ছিল ২২। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে আমার পরে থাকা ৭০ ও ৭২ নম্বর পদধারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমি বঞ্চিত হই। বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। পরে আমাকে মুন্সিগঞ্জে বদলি করা হয়। আমার বিরুদ্ধে একটি কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি হয়। এসব ঘটনা আজও ভুলতে পারিনি। তবে আমার জীবনের সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী স্মৃতিগুলোর একটি ১৯৯৮ সালের। তখন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে যোগ দিয়েছিলাম। টানা ১৪ মাস বেতন-ভাতা পাইনি। সরকারি ডরমেটরিতে মেসের খাওয়ার টাকা ও দোকানের বকেয়া ছিল। ২০০১ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেনে চাকরি হলে সেখান থেকে যখন চলে আসি তখনও সাবেক সহকর্মীরা আমার কাছে কোনো পাওনা চাননি। বরং আমার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, একসঙ্গে মাগরিবের নামাজ পড়েছেন, চা খেয়েছেন এবং বাস কাউন্টারে গিয়ে আমাকে বিদায় দিয়েছেন। পরে বেতন-ভাতা পাওয়ার পর ফিরে গিয়ে তাঁদের পাওনা পরিশোধ করেছি। তাঁদের সেই মানবিক আচরণ আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়