প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ২২:০১
হাইমচরে নিষিদ্ধ জালে নদীর চিংড়ি রেণু ধরায় ৭ জেলে আটক, জরিমানা

হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে চিংড়ির রেণু পোনা ধরার সময় সাতক্ষীরা ও যশোরের সাত জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে গাজীপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।
|আরো খবর
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ আহমেদের নেতৃত্বে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় রেণু পোনা ধরার সরঞ্জামসহ সাত জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আটক জেলেদের পরিচয়ও নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। তারা হলো—সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নিকারি পাড়া গ্রামের জোহর আলী (৫৭), কাশেশ আলী নিকারি (৫৫), ইউনুস আলী (৪৫), মুকুল নিকারি (৩০), মিজান নিকারি (৩৪), আলাউদ্দিন বিশ্বাস (১৯) এবং যশোরের কেশবপুর এলাকার রাজু আহম্মেদ (২৫)।
অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় রেণু পোনা আহরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয়। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এই কার্যক্রমের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে হাইমচরের গাজীপুর, নীলকমল, কাটাখালী ও চরভৈরবী এলাকায় রেণু পোনা শিকারের প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সময় সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চল থেকে শতাধিক জেলে এসে এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র তাদের থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে মেঘনা নদী থেকে সংগ্রহ করা রেণু দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে পাচার করছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি চিংড়ি রেণু আহরণের সময় জালে আটকা পড়ে অসংখ্য অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও রাতের বেলায় অবাধে এই কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।







