বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫

প্রতিবন্ধীদের জন্যে ফরিদগঞ্জের ইউএনও’র বিশেষ সংবেদনশীলতা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবন্ধীদের জন্যে ফরিদগঞ্জের ইউএনও’র বিশেষ সংবেদনশীলতা!

রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো নাগরিককেই পেছনে ফেলে না রাখা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজের শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামের চরম কষাঘাতে পিষ্ট হয়। দয়া বা ভিক্ষা নয়, তারা চান মর্যাদা নিয়ে বাঁচার নিশ্চয়তা। মাঠ প্রশাসনে যখন কোনো কর্মকর্তা সেই তাগিদ অনুভব করেন এবং দায়িত্বের সীমানা ছাড়িয়ে সংবেদনশীল হৃদয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন তা কেবল ব্যক্তিক উদ্যোগ হিসেবেই থাকে না, বরং পুরো ব্যবস্থার জন্যেই এক অনন্য বার্তা ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সাম্প্রতিক ভূমিকা এমনই এক প্রশংসনীয় অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির মনোহর-ফুলবানু দম্পতির ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার পর প্রশাসনিক তৎপরতায় তাদের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি নতুন পাকা ঘর। কেবল থাকার ব্যবস্থা করাই নয়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পাকা ঘরের চাবি হস্তান্তরের পাশাপাশি তাদের স্থায়ী জীবিকানির্বাহের লক্ষ্যে একটি নতুন ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র প্রদান এবং দোকান ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্তও করা হয়েছে।

একই সংবেদনশীলতার ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পুনরায় উঠে আসে উপজেলা প্রশাসনের মানবিক চেহারা। সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে এবং একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে চরম সংকটে পড়া অটোবাইক চালক প্রতিবন্ধী আবু তাহেরের আকুতি চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর পরই ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে বাঁচার আকুতি জানানো এই অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি অটোবাইকের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

এই দুটি ঘটনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কাউকে সাময়িক ত্রাণের বস্তা দিয়ে কিংবা করুণার হাত বাড়িয়ে দায় সারা হয়নি। বরং উভয় ক্ষেত্রেই এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ব্যক্তির আত্মমর্যাদা রক্ষা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। আবু তাহেরের হাতে অটোবাইক কিংবা ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের জন্য মাথা গোঁজার পাকা ঘর ও আয়ের মাধ্যম নিশ্চিত করা—একই সুতোয় গাঁথা একটি টেকসই ও টেকসইমুখী উন্নয়ন দর্শনের বহির্প্রকাশ।

আজকের গণমাধ্যম কেবল খবর পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করেই থেমে থাকে না, সমাজের অন্ধকার দূর করতে বাতিঘরের ভূমিকা রাখে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যেভাবে অসহায় মানুষের কষ্ট তুলে ধরেছে এবং উপজেলা প্রশাসন যেভাবে দ্রুত সাড়া দিয়ে তা সমাধানের পথ সুগম করেছে, তা ‘সংবাদ থেকে সমাধান’-এর এক উজ্জ্বল নজির স্থাপন করে।

আমরা আশা করি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধ অন্যান্য উপজেলা এবং মাঠ প্রশাসনের জন্য অনুকরণীয় মডেল হবে। সরকারি কর্মকর্তা যখন সহানুভূতিশীল হৃদয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামো মানবিক রূপ লাভ করে। স্বনির্ভর হতে চাওয়া প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে প্রশাসন এভাবেই দাঁড়িয়ে বৈষম্যহীন ও সংবেদনশীল এক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়