প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩
এটা কি প্রকৃত সত্য কথন? এটা কি হবে বাস্তব?

মতলবে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও নতুন কমিটির পরিচিতি সভায় বক্তাগণ বলেছেন, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টরা সরকারি দলের হলেও ছাড় নেই। এমন বক্তব্য নিয়ে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে সংবাদ পরিবেশন করেছেন চাঁদপুর কণ্ঠের মতলব ব্যুরো ইনচার্জ রেদওয়ান আহমেদ জাকির। তিনি লিখেছেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁও মহিলা মাদ্রাসা মাঠে মাদক কেনাবেচা ও মাদক সেবন প্রতিরোধে সমাবেশ ও নতুন কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ঢাকিরগাঁও মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মতলব পৌরসভার সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান। পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান শাহীন ভূইয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন মৃধা, মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমদ সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাগর, সাবেক কমিশনার শাহজাহান মল্লিক। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সুজন পাটোয়ারী, খোরশেদ আলম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচাররোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে হবে, কারণ মাদক কেবল স্বাস্থ্যই নষ্ট করে না, বরং পুরো সমাজব্যবস্থাকে অবক্ষয় করে তোলে। ‘মাদক কে না বলুন’ এই অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের একাত্ম হতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীরা যদি সরকারি দলের হয়ে থাকে তাহলে তাদেরও ছাড় নেই। দলে তাদের জায়গা নেই। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, মাদক নির্মূল করতে পুলিশের পক্ষে একা সম্ভব নয়। সামাজিক ভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যেহেতু মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজ সংঘবদ্ধ হয়েছে এবং মাদক প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে, এখন মাদক নির্মূল করা সহজ হবে। সব কাজ করতে গিয়ে কেউ হুমকির শিকার হলে ওই হুমকিদাতা যতো বড়ো শক্তিশালী হোক, চুল পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না। সমাজকে সুন্দর করতে পুলিশ আপনাদের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
মতলবে মাদকবিরোধী সমাবেশটি কি স্থানীয় এমপির ইচ্ছা পূরণে, কারো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে, না স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার ব্যবচ্ছেদ আমরা করতে চাই না। তবে এ সমাবেশে মাদক সংশ্লিষ্টদের কেউ সরকারি দলের হলেও তার ছাড় নেই বলে বক্তারা যে কথা বলেছেন, সেটা প্রকৃত সত্য কথন কিনা সেটা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চাই। কারণ, এমন কথা সরলভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে থানার ওসিসহ তার সহকর্মীরা গরলের শিকার হয় কিনা সেটা দেখার বিষয়।
আমাদের জাতীয় স্বভাবের একটা দৃষ্টিকটু দিক এই যে, আমরা যা বলি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা বাস্তবায়ন করি না। আমাদের মধ্যে যারা বেশি হুঙ্কার দেয়, তাদের কাউকে কাউকে পরবর্তীতে অনেক বেশি নতজানু হতে দেখা যায়। মতলবে মাদকবিরোধী সমাবেশের সভাপতি ও প্রধান অতিথি যদি অন্য সকল বক্তার সাথে সহমত পোষণ করেন, সমুচ্চারিত শব্দে সরকারি দলের মাদক-সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে থাকেন, তাহলে সেটা অবশ্যই আশাপ্রদ। নোয়াখালীর একটি প্রবাদ আছে, ‘কইতে বক্স আলী, লেখতে হাডাহাডি’। যার মর্মার্থ হচ্ছে-বলা সহজ করা কঠিন। আমরা বিগত দিনে সরকারি তথা শাসক দলের লোকজনকে মাদক ব্যবসায় প্রণোদনা দিতে স্বয়ং বড়ো বড়ো কিছু নেতাকেই দেখেছি। আর মাদক ব্যবসার লাভের অংশ সরকারি দল ও প্রশাসনের লোকজনের কাছে পৌঁছে যাওয়ার নানা কৌশলও প্রত্যক্ষ করেছি। হুঙ্কার দিলে নেতার রেট বাড়ার বিষয় কে না জানে। সরকার পরিবর্তন হয়, বাস্তবে মানসিকতার কি পরিবর্তন হয়? বস্তুত এ পরিবর্তনটাই জরুরি। সহজভাবে বলা কথাটা কঠিনভাবে বাস্তবায়নের বাস্তবতাই দেখতে চায় প্রায় সকলে। এই চাওয়াটাই প্রত্যাশিত, অতি প্রয়োজনীয়-এমনটি বারবার, পুনর্বার, বহুবার বলতে আমাদের ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই, দ্বিধা নেই।




