প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৩
মর্যাদার অবক্ষয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অপমান—রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রতিচ্ছবি!

|আরো খবর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—এটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি বাঙালির রাজনৈতিক জাগরণ, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার প্রতীক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট যেন সাক্ষ্য দেয় ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের।
কিন্তু আজ সেই পবিত্র পরিসরে যে দৃশ্য আমরা দেখছি, তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রকাশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়—জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে, আর একজন ছাত্রনেতা বসে আছেন ক্ষমতার অহংকারে।
ক্ষমতার উল্টো স্রোত: জ্ঞান বনাম প্রভাবের সংঘর্ষ
একসময় ছাত্ররাজনীতি মানেই ছিল আদর্শ, ত্যাগ ও নেতৃত্ব। কিন্তু এখন তা রূপ নিয়েছে ক্ষমতার শর্টকাটে। ছাত্রনেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে প্রশাসনিক প্রভাবের ফল, জ্ঞানের নয়।
এই বাস্তবতা তৈরি করেছে এমন এক সমাজ—
যেখানে জ্ঞান হারায় মর্যাদা,
আর ক্ষমতা পায় বৈধতা।
শ্রদ্ধার মৃত্যু: সংস্কৃতির নীরব পতন
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল নৈতিকতার ভিত্তি। কিন্তু আজ সেখানে দেখা যাচ্ছে শ্রদ্ধার অনুপস্থিতি। ভাইরাল হওয়া দৃশ্যটি আসলে শ্রদ্ধার মৃত্যুর প্রতীক।
যখন একজন শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে শিক্ষককে অস্বস্তিকর অবস্থানে ফেলতে পারে, তখন বুঝতে হবে সমাজের ভেতরে গভীর নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা: বাস্তবতা নাকি প্রতারণা?
‘নতুন বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন কি শুধুই স্লোগান? যদি আচরণ না বদলায়, তবে পরিবর্তন কেবল ক্ষমতার মালিকানা বদল—বাস্তব পরিবর্তন নয়।
শিক্ষকের অবস্থান: মর্যাদা না আপস?
যখন শিক্ষক নীরব থাকেন, তখন সেটি হয়ে ওঠে একটি বিপজ্জনক বার্তা—ক্ষমতার কাছে নত হওয়াও স্বাভাবিক। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা: নীরবতার দায়
প্রশাসনের নীরবতা অনেক সময় নীরব সমর্থনে পরিণত হয়। এর ফলে অনিয়ম আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ: সংকটের মুখে প্রজন্ম
এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে ক্ষমতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। শিক্ষার্থীরা শিখবে—
শ্রদ্ধা নয়, প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ
যোগ্যতা নয়, সংযোগই শক্তি
উপসংহার: প্রতিরোধের শেষ সময়
আজ যদি শিক্ষক অপমানিত হন,
আগামীকাল অপমানিত হবে জ্ঞান,
আর তার পরদিন অপমানিত হবে পুরো জাতি।
লেখক: অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি,সিনিয়র সাব-এডিটর, ও কলামিস্ট, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








