শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২২

মাদক আগ্রাসনে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়!

প্রবীর চক্রবর্তী
মাদক আগ্রাসনে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়!
ছবি :প্রতীকী

প্রতিরোধে প্রয়োজন :

* প্রতিটি এলাকায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন
* চুরিরোধে চিহ্নিতদের আটকে সাঁড়াশি অভিযান
* নিজের ঘর থেকেই মাদকমুক্তকরণের ডাক
* জনপ্রতিনিধিদের মাদকবিরোধী কাজে সম্পৃক্ততা বাড়ানো
* মাদক সংশ্লিষ্টতা পেলে রাজনৈতিক দল থেকে দ্রুত বহিষ্কার

কাঞ্চন সওদাগর (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ করে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। এ সময় তার কাছে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এছাড়া একইদিনে আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চল তথা গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের। কিন্তু এই চিত্রটি পুরো ফরিদগঞ্জের।

শুধু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে এসব কর্মকাণ্ড করে। মাদকসেবী পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাবা-মা'র থানায় লিখিত অভিযোগের কাহিনী ঘটছে হরহামেশা। এমনকি ফরিদগঞ্জে ইতঃপূর্বে মাদকসেবী পুত্রের হাতে মা খুন হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আটক করে আদালতে পাঠালেও মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা কারাগার থেকে বের হয়ে আবারো সেই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ বিগত মার্চ মাসেই থানা পুলিশ শুধু মাদক সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা করেছে। এরপরও থামছে না মাদকের ভয়াবহতা।

বরং দিনের পর দিন এটি বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, মাদকসেবীরা মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্যে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধের সাথে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে চুরিসহ নানা অপরাধ। উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ ব্যাপক হারে চুরি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলার জনবহুল উপজেলা ফরিদগঞ্জ। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত এলাকা হওয়ার কারণে ক্রমেই বাড়ছে জনবসতি। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় চারপাশে হাইমচর, চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলা রয়েছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যাচ্ছে

উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং পৌর এলাকায় মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে বালিথুবা পশ্চিম, সুবিদপুর পূর্ব, গুপ্টি পূর্ব, গুপ্টি পশ্চিম, রূপসা দক্ষিণ, চরদুঃখিয়া পূর্ব, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ও গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে মাদকের ছড়াছড়ি বেশি। এর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরিসহ ছোটখাটো অপরাধ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, পৌরসভার আশেপাশে মাদকের ছড়াছড়ি। স্কুল এলাকার এক ব্যবসায়ী বারংবার মাদকসহ আটক হলেও কারাভোগের পর আবার তারা মাদকের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় জনতা এক মাদকসেবীকে আটক করে জনপ্রতিনিধির হাতে তুলে দিলেও পুলিশ আসার আগেই সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে বর্তমান ও সাবেক কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে মাদকের সাথে জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চুরি ও অপরাধের পেছনে মাদকসেবীরাই জড়িত। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জনপ্রতিনিধিরা সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানান।

অনেকে বলেন, মামলার ঝামেলা ও কোর্টে যাওয়ার ভয়ে মানুষ অভিযোগ করতে চায় না। তাই পুরোনো মামলাগুলো থেকেও চোরদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিদের মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও মাদক সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার করতে হবে।

একজন মাদ্রাসা শিক্ষক মসজিদে জুমার খুতবায় মাদকবিরোধী বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার আশিকুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন বলেন, “মাদকের আগ্রাসনে আমরা বিপর্যস্ত। এমনকি এখন গাঁজার চাষ পর্যন্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, মাদক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। এটি নির্মূল করতে হলে ঘর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা হয়েছে। তবে জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি বড় সমস্যা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসন কাজ করছে। পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

ডিসিকে / এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়