মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৯

মদিনার রহস্যময় জিন পাহাড়ে একদিন

ড. আব্দুস সাত্তার
মদিনার রহস্যময় জিন পাহাড়ে একদিন

সৌদি আরবের মদিনার বহুল আলোচিত জিন পাহাড়। এই পাহাড় নিয়ে কৌতুহল আর গল্পের শেষ নাই। সারা বিশ্বে এই পাহাড়টি একটি রহস্যের পাহাড় বলেই বেশী পরিচিত। পাহাড়টির আসল নাম ওয়াদি আল জিন। লোকমুখে এটি জিনের পাহাড় নামেই পরিচিত। এই পাহাড়ের একটি রহস্যজনক ও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, সব কিছু ঢালুর বিপরীত দিকে অর্থাৎ উপরের দিকে গড়ায়। সাধারণত, সব কিছু ঢালুর দিকে গড়িয়ে গেলেও কেবল এই পাহাড়টির সাথেই ঘটেছে এমন অদ্ভুত কাণ্ড। পুরো ব্যাপারটিই সাধারণ নিয়মের ঠিক উল্টোটা ঘটে চলে এখানে। এমন কি রহস্য আছে এ পাহাড়ে? যে বন্ধ গাড়িও ঢালুর বিপরীতে চলতে থাকে। আর গাড়ির গতিও কিন্তু কম নয়, রীতিমতো ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলতে থাকে। কেউ কেউ এ নিয়ে ধারণা করেন, জায়গাটিতে প্রচুর চুম্বকজাতীয় পদার্থ আছে তাই এমনটি হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো পানি, পানির বোতল বা জুতায় চুম্বক কীভাবে আকর্ষণ করে? অনেকেই বলেন এটা জিনদের কারসাজি। আমরা গাড়ি থেকে নেমে সবাই পানির বোতল রেখে পরীক্ষা করলাম। এটা কোনো গল্প নয়, বাস্তবের ঘটনা।

আমদের গাড়ির আরব ড্রাইভার মুহাম্মদ বিন তালেব জানালেন, ‘এখানে কোনো জিন-টিন নেই, এটা ‘আরদে মুকাদ্দাস’ বা পবিত্র মাটি। এই পাহাড়ের উপর দিয়ে প্লেনও যেতে পারে না। এই পাহাড়ে উঠে নবী করিম (সা.) জিনদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তখন নাকি কিছু জিন দুষ্টুমি করে পালিয়ে যেতে যায়। পরে বয়স্করা তাদের পালানো রোধ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয় তাদের পথ উল্টে দিয়ে। তাই এখানে সবকিছু উল্টো চলে। নবী করিম (সা.) জিনদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন মক্কায়। এটা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু মদিনায় জিনদের সঙ্গে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় না।

সৌদি সরকার ২০০৯-১০ সালের দিকে এই ওয়াদি আল বায়দায় ২০০ কিলোমিটার একটি রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার সমস্যা শুরু হয়। হঠাৎ দেখা যায় রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি আস্তে আস্তে মদিনা শহরের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে। যেন অদৃশ্য কোন শক্তি যন্ত্রপাতিগুলো মদিনার দিকে ঠেলছে। এমনকি পিচ ঢালাইয়ের ভারী রোলারগুলোও বন্ধ থাকা অবস্থায় আস্তে আস্তে ঢালু বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এসব দেখে কর্মরত শ্রমিকরা ভয় পেয়ে যান। তারা কাজ করতে অস্বীকার করেন। পরে রাস্তাটির কাজ বন্ধ করে দেয়। রাস্তাটির কাজ যেখানে বন্ধ করা হয় সেখানে চারদিকে বিশাল কালো পাহাড়। ওখানেই শেষ মাথায় গোল চত্বরের মতো করে আবার সেই রাস্তা দিয়েই মদিনা শহরে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সৌদি সরকার বেশ কিছুকাল জনসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ রাখার পর কয়েক বছর উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে জিন পাহাড় এলাকাটি পর্যটক স্পট হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছে। স্থানীয় আরবরা ছুটির দিন অবসর সময় কাটাতে এখানে আসেন। এখানে বেশকিছু দোকান আছে, উটে চড়া যায় এবং গাড়ি ভাড়া নিয়ে গাড়ি উল্টো পথে চলা দেখা যায়। প্রতি বছর হজ কিংবা ওমরা হজ করতে আসা মানুষও এই রহস্যঘেরা জিনের পাহাড় দেখার কৌতুহল জাগে। কিন্তু এই কৌতুহল মেটানোর কোন উপায় নেই। এমন অতৃপ্তি নিয়েই ফিরতে হয় সবাইকে। যেমন আমরা ফিরেছি অনেক প্রশ্নের উত্তর না পেয়েই। জ্ঞান বিজ্ঞানের এত প্রসারের পরেও আজ অবধি এই অপার রহস্যের উদ্ঘাটন করতে পারেনি কেউ। আজও বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে এই অদৃশ্য শক্তির জিনের পাহাড়।

ড. আব্দুস সাত্তার : ওয়াশিংটন ডিসি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়