প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:১৫
ফলোআপ ----
মতলবে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা, আটক ১

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে জনতার হাতে ধৃত মোবারক হোসেনের (৫২) বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ সংক্রান্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
|আরো খবর
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে আসামি মোবারক হোসেন সরদারকে চাঁদপুর কোর্টে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে স্থানীয় লোকজন মোবারককে তার দোকানের সামনে মারধর করে। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। সে পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সে লেজাকান্দি গ্রামের জমার বাড়ির হোসেন আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরী তার এক আত্মীয়ের মেয়ে।
পুলিশ ও পরিবার জানায়, প্রায় তিন মাস আগে মোবারক কৌশলে ওই কিশোরীকে ডেকে তার বসতঘরে নিয়ে যায়। ওই সময় ঘরে তার পরিবারের কেউ ছিলো না। সে কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং ওই ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ভিডিও করে। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ধর্ষক মোবারক কিশোরীকে হুমকি দেয়। তিন-চারদিন আগে মোবারক ওই ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। এতে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বাড়িতে সালিস বসে। সেখানে মোবারক উপস্থিত না হলেও তার পক্ষের কয়েকজন হাজির হয়। তখন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সালিস শেষ হয়।
এদিকে শুক্রবার সকালে মোরাবক ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে হুমকি দেয়। দেখে নেয়ার কথা বলেও শাসায়। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে মোবারককে পিটিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করেছে তার শাস্তি চাই। এখন আমার মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জামশেদ জানান, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত ও ভিডিও সংগ্রহ সাপেক্ষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।








