প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯
চাঁদপুর সদরের সপ্রাবি'র প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
প্রতিটি ইউনিয়নে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও স্টাডি ক্লাব গড়ার ঘোষণা চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের

চাঁদপুর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সপ্রাবি)-এর প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক ও মানবিক বিকাশ, ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং বিদ্যালয়মুখী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আহমেদ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং নানুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রত্না রাণী দাস গীতা পাঠ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে মো. আবুল হাশেম ও ফাতেমা বেগম এবং বিষ্ণুদি আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির কোমলমতি শিশুদের নিয়ে কাজ করেন শিক্ষকরা। তাই তাদের সঙ্গে আচরণ হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর ও স্নেহপূর্ণ। নিজেদের সন্তানকে যেভাবে ভালোবাসেন, শিক্ষার্থীদেরও সেভাবে আপন করে নিতে হবে। শিক্ষকদের স্নেহে ও ভালোবাসাতেই গড়ে উঠবে সুন্দর চিন্তার এক নতুন প্রজন্ম।”
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “মানুষ জীবনে যে শিক্ষককে সবচেয়ে বেশি স্নেহ করতে দেখেছে, তাকে সারাজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তাই শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষকদের দায়িত্ব।” এ সময় তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়ি বা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্লাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পরিকল্পনা :
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে জেলা প্রশাসক নতুন এক পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ক্লাব, স্টাডি ক্লাব ও বিজ্ঞান ক্লাব গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের অন্তত একটি বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার স্থাপন করা হবে, যা উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তদারকিতে বাস্তবায়িত হবে।
এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ এবং পুকুরসংলগ্ন বিদ্যালয়গুলোতে ‘প্রকৃতি পাঠশালা’ গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্কুল ফিডিং ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার :
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান 'স্কুল ফিডিং' কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা তদারকি করার আহ্বান জানান। খাবারের মান বা সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
ক্রীড়া ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ :
মতবিনিময় সভাশেষে প্রধান শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এক বছরের শিক্ষা উপকরণ (উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বই, খাতা ও কলম) তুলে দেওয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের এ গোছানো ও ব্যতিক্রমী আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগ প্রশাসন ও শিক্ষকদের সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








