সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২১:৪২

হাজীগঞ্জে এতিমদের চাল আত্মসাৎ করলো ইউপি সদস্য

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
হাজীগঞ্জে এতিমদের চাল আত্মসাৎ করলো ইউপি সদস্য

হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্যে বরাদ্দের ২ টন চালের মধ্যে ১ টনই আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে। শুধু চাল আত্মসাৎই নয়, বরাদ্দের ওই চাল আনার সময় ২ হাজার টাকা উৎকোচও পকেটে ঢুকিয়েছেন এই ইউপি সদস্য।

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) এতিমখানায় গেলে এর স্টক রেজিস্টার হতে এসব তথ্য পাওয়া যায়। যার সত্যতা নিশ্চিত করেন এতিমখানার পরিচালক ও মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হোসাইন।

তিনি জানান, আমাদের এতিমখানার নামে জিআর বরাদ্দ হয়েছে ২ টন চাল, যা কাগজেও লেখা। ৩০ কেজির বস্তা হাওয়ার কথা ৬৬টি, কিন্তু আমরা মাদ্রাসায় চালের বস্তার বুঝ পেয়েছি ৩০ কেজির ৩৩টি। আমাদের এতিমখানার এই এতিম শিশুদের বরাদ্দের ১ টন চাল কম দিয়েছেন ইউপি সদস্য আলমগীর কাজী। শুধু তাই নয়, এই ১ টন চাল আনার সময়ও তাকে উৎকোচ হিসেবে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এখন ওনারা প্রভাবশালী লোক। ওনাদের এই কথা জানাজানি হলে আমার ও এতিমখানার আগামীর বরাদ্দ নিয়ে নয়-ছয় করে কিনা সে আতঙ্কে মুখ খুলতে ভয় পাই।

মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার ইসমাইল মুন্সি ও স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা আবু ইউসুফের হাত ধরে এই মসজিদ ও এতিমখানার যাত্রা শুরু হয়। যেখানে মসজিদ সাড়ে ২১ শতক জমিতে এবং এতিমখানা ২১ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মরহুম আবু ইউসুফের ৩ ছেলে ইকবাল হাসান চৌধুরী, মাসুদুর রহমান ও ফয়সাল চৌধুরী পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জমি দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন। যেখানে বর্তমানে এতিমখানায় প্রায় ২শ’ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে এবং এর মধ্যে ৯০ জন ছেলে শিক্ষার্থীই বোর্ডিংয়ে নামমাত্র খরচে পড়ালেখা করছে। আর তাদের বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে।

এতিমখানার পরিচালক ও মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হোসাইন বলেন, এই এতিমখানার এক সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জামি সারা বাংলাদেশের মধ্যে বেফাক পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছে। এখানে ক্লাস রুমগুলোর উন্নয়নে সংস্কার দরকার। বাচ্চাদের পড়ালেখা ও খাওয়া দাওয়ার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকদের বেতনভাতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। অধিকাংশ এতিম শিক্ষার্থী আবাসিকে রেখে নামমাত্র ফি-তে দৈনিক তিন বেলা খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। আমিসহ ১১জন শিক্ষক নামমাত্র বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যেহেতু দান-অনুদান নিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানা চলে, আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। সমাজের দায়িত্ববানদের প্রতি এই এতিমরা যাতে কোনোভাবেই কোনো বরাদ্দ হতে নয়ছয়ের শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখতে অনুরোধ রইলো।

এদিকে এতিমদের বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ ও উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি চাউর হতেই ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। এর মধ্যে ৩নং ওয়ার্ডের একটি মসজিদ উন্নয়নের বরাদ্দ ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মুকুন্দসার মসজিদে দিয়ে দিয়েছেন। ৭নং ওয়ার্ডের একটি মসজিদের উন্নয়নের জন্যে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার পরে জানাজানি হলে ওই আত্মসাতকৃত টাকা মসজিদ কমিটিকে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মেনাপুর মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের বরাদ্দের বাৎসরিক টাকাও তিনি পকেটে ঢুকিয়েছেন। কেউ কিছু বললে প্রভাব বিস্তার করে বরাদ্দ বন্ধেরও হুমকি-ধমকি তিনি দেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীকে পাওয়া যায়নি। পরে তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল আমাকে হেয় করার জন্যে এসব মিথ্যা কথা বলে আসছে। আমাদের করণীয় হলো প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া। প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দায়িত্বে মাল উত্তোলন করবে সেটাই হয়েছে। তিনি বলেন, আমি এতিমদের বরাদ্দের চাল ও উৎকোচের টাকা নিয়ে থাকলে তদন্ত করতে বলুন। প্রমাণ করতে পারলে প্রয়োজনে মেনাপুর বাজারে নাকে খত দিয়ে মাফ চাইবো। তিনবারের মেম্বার আমি। হজ্বে গিয়ে সেখানে আল্লাহর কাছে বিচার দিবো, কেনো এসব অপবাদ আমার নামে সবাই ছড়াচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়