প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৮
তিন বিচারক প্রত্যাহারের দাবিতে চাঁদপুরে আইনজীবীদের আন্দোলন অব্যাহত
মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল

চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ ও সদর সিনিয়র সিভিল জজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
|আরো খবর
সভাপতির বক্তব্যে শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, এই কর্মসূচি শুধু আইনজীবীদের জন্য নয়, বিচারপ্রার্থীদেরও। আমরা বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণেই আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিচারকদের বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও তিনি আইনজীবীদের বক্তব্যে কর্ণপাত করেননি। বরং নিজেদের ইচ্ছেমতো বিচারকার্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করেন শামছুল ইসলাম মন্টু। তিনি বলেন, কোনো আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হুমকিতে আইনজীবীরা আন্দোলন থেকে পিছপা হবেন না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলো মানা না হলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। যেসব বিচারক হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, প্রয়োজনে তাঁদের আদালতও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, কামাল উদ্দিন, জহির উদ্দীন বাবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন, জসিম মেহেদী, সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক টিটো, তাফাজ্জল হোসেন, জাবের হোসেন, সুপ্তা, আবু সায়েম, তৌহিদুল ইসলাম তরুণ, মানসুরী, শাহ আলম ফরাজী, শেখ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন। বিচারকদের পাশাপাশি আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও পেশকারদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, আদালতের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে অর্থ আদায়কে কেউ কেউ নিয়মে পরিণত করেছেন। ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদেরও প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।
এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তিন বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা করেন আইনজীবীরা। তারও আগে ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রায় সাড়ে চার শ' আইনজীবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তে থাকা তিন বিচারক হলেন—চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধন এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক শম্পা ইসলাম।







