প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁদপুর কণ্ঠের মুখোমুখি ফরিদগঞ্জে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী
বস্তাপচা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের বিকল্প নেই

গণফোরামের কার্যক্রম ফরিদগঞ্জে তেমন একটা চোখে পড়ে না। উপজেলা কমিটি থাকলেও নেই পৌর বা ইউনিয়ন কমিটি। সাংগঠনিক কার্যক্রমহীন দলের করুণ অবস্থা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর- ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। দলটি কার্যক্রমে অপরিচিত হলেও প্রার্থী দিয়েছে পরিচিত। যিনি হলেন ফরিদগঞ্জে অবস্থিত গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. মুনীর চৌধুরী। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম ফরহাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতীক উদীয়মান সূর্য।
|আরো খবর
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?
মো. মুনীর চৌধুরী : আমি যেহেতু নির্বাচন করছি, বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশাতো থাকবেই।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?
মো. মুনীর চৌধুরী : গত ৩২ বছর ধরে গণফোরাম করে আসছি। গত ৫০ বছর ধরে রাজনৈতিক যে ধারা চলে আসছে, সেখান থেকে বের হয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। হানাহানি মারামারি দেশের মানুষও পছন্দ করে না, আমার দলও করে না। তাই জনগণ আমাদেরকে সমর্থন করবে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের গুরুত্ব কতটুকু?
মো. মুনীর চৌধুরী : স্বৈরাচার পতনের পর জুলাই যোদ্ধারা এ জাতিকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে তা বাস্তবায়নে 'হ্যাঁ' ভোটে সমর্থন দিতে হবে। আমাদের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা তা মোটেই জনবান্ধব নয়। বস্তাপচা এই কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের বিকল্প নেই।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে?
মো. মুনীর চৌধুরী : তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সাথে যে সম্পৃক্ততা থাকার কথা সেটা নেই। তাদের শুধুমাত্র নির্বাচনের সময়ই দেখা যায়। সংসদ সদস্যদের মূল কাজ হলো দেশের আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। আমাদের এই কাঠামোতে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। রাজনীতিবিদরা শুধুমাত্র তাদের এবং দলের আর্থিক উন্নয়ন করেছেন।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?
মো. মুনীর চৌধুরী : অবশ্যই একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। একটি স্বাধীন নির্বাচনী কাঠামো তৈরি করা উচিত। কারণ ক্ষমতাসীনরা তাদের মতো করে আইন করে। কখনো দলীয় সরকারের অধীনে, কখনো তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হয়। এভাবে সুষ্ঠু এবং দল নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তারা স্বাধীন না।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সমাজে প্রচলিত আছে, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতটুকু সত্য?
মো. মুনীর চৌধুরী : এটা অনেকাংশে সত্য। আমাদের মানব চরিত্রই হলো ভুলে যাওয়া।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি কেমন লাগছে?
মো. মুনীর চৌধুরী : শিক্ষকতা পেশা হলো মানবিক পেশা। সম্মানজনক পেশা। এ পেশার ওপরে কোনো পেশা নেই। মানুষ গড়ার পেশা শিক্ষকতা। রাজনীতি হলো একেবারে ভিন্ন একটা বিষয়। রাজনীতি মানে রাজার নীতি নয়, রাজনীতি হলো নীতির রাজা। আমি মনে করি, সমাজের ভালো মানুষগুলো রাজনীতিতে আসা দরকার। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির জন্যে প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। রাজনীতিতে প্রয়োজন মেধাবী মুখের।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : উদিয়মান সূর্য চেয়েছেন নাকি দিয়েছে?
মো. মুনীর চৌধুরী : আমি উদিয়মান সূর্য চাইনি, দল আমাকে দিয়েছে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : ফরিদগঞ্জে গণফোরামের কত পার্সেন্ট ভোট রয়েছে?
মো. মুনীর চৌধুরী : এটা বলা কঠিন। গণসংযোগে গেলে মানুষের সাড়া পাই, কিন্তু বাস্তবতা বড়ো কঠিন।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : উপজেলায় গণফোরামের কমিটি এবং কার্যক্রম আছে?
মো. মুনীর চৌধুরী : হ্যাঁ, উপজেলায় গণফোরামের কমিটি এবং কার্যক্রম আছে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।
মো. মুনীর চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ।








