শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০

ফরিদগঞ্জে ভোটের পারদ ঊর্ধ্বমুখী, মাঠে ত্রিমুখী লড়াই

ভোটের উত্তাপে উত্তাল ফরিদগঞ্জ, প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতার অভিযোগ।। মাইকের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ও কাগজের পোস্টার না থাকায় জৌলুস কমেছে প্রচার প্রচারণায়

ফরিদগঞ্জে ভোটের পারদ ঊর্ধ্বমুখী, মাঠে ত্রিমুখী লড়াই
শামীম হাসান।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ততই চড়ছে ভোটের পারদ। গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানের আড্ডা, হাটবাজার কিংবা পথঘাট—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের আগামী সংসদ সদস্য?

প্রতীক বরাদ্দের পর বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দিনগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা। তবে প্রচারণার প্রথম দিকেই অফিস ভাংচুর, সমর্থকদের ওপর হামলা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কম্বল বিতরণসহ নানা ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।

চিংড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এম. এ. হান্নানের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওয়ার বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক ও গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আ. কাদির তপদার (৬০)। এ ঘটনায় তার স্ত্রী রহিমা বেগম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর একদিন পর রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৫) ফরিদগঞ্জ এ. আর. হাই স্কুল গেটের প্রবেশমুখে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয় এবং অফিসে থাকা তিনজন সমর্থককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে। একই দিন গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওয়ার বাজারে মানববন্ধন করে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ তোলেন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার ছেঁড়ার একটি ছবি ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা—ভোটের মূল লড়াই হবে ত্রিমুখী। বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের আলহাজ্ব এম. এ. হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এই প্রতিযোগিতা--এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে মাঠের প্রচার-প্রচারণা।

নির্বাচনী এক সভায় বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করবো, যার মাধ্যমে এক একজন নারী মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার সুবিধা পাবে পাঁচবছর যাবত। যারা কৃষক আছেন তাদের জন্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সব কিছু ফ্রিতে পাওয়া যাবে। আরো থাকবে স্বাস্থ্য সেবা কার্ড, ছোটখাট চিকিৎসা প্রতিটি ইউনিয়নেই হবে, যাতে করে উপজেলা শহরে ছুটে যেতে না হয়। জনগণ ধানের শীষে ভোট দিলেই এসব সুফল পাবে।

চিংড়ি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নান বলেন, ৩৫ বছর ধরে আমি এলাকার জনগণের সাথে ছিলাম, এলাকার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন করেছি। যারা আমার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে, সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে, আমি আইন ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো তারা যেন এসব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আমার নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে৷ আমার ছবি ছিঁড়তে পারো, পোস্টার ছিঁড়তে পারো, জনগণের অন্তরে আমাদের প্রতি যে ভালোবাসা ওই ভালোবাসাকে ছিঁড়তে পারবে না ইনশাআল্লাহ৷ আমরা এই জাতিকে ভিক্ষুকের জাতিতে রাখতে চাই না।

এদিকে এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় প্রচারণার চিরচেনা জৌলুস কিছুটা ফিকে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

অটোরিকশাচালক রিপন মিয়া বলেন, পোস্টার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগছে। কে দাঁড়াইছে না দাঁড়াইছে বুঝতে পারছি না।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে। প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে প্রচারণায় ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়