বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪

বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দাবিটি যৌক্তিক ও সময়োচিত

অনলাইন ডেস্ক
বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দাবিটি যৌক্তিক ও সময়োচিত

পরিকল্পিত ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন যে কোনো শহরের অগ্রগতির মূল শর্ত। সড়ক প্রশস্তকরণ কিংবা সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এই উন্নয়ন যদি সমন্বয়হীনতার বলি হয়ে পরবর্তীতে দুর্ভোগ ও অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকে না। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের মাঝখানে থাকা ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত অপসারণ বা স্থানান্তরের দাবিতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপককে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের এ দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত ও সময়োচিত।

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের ফলে হাজীগঞ্জ বাজারে সড়কের পরিসর বেড়েছে, যা যানজট নিরসন ও পথচারীদের চলাচলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রসারিত সড়কের ঠিক মাঝখানেই রয়ে গেছে প্রায় ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। একটি সচল ও ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়কে পথের মাঝখানে খুঁটি রেখে দেওয়া কেবল দূরদর্শিতার অভাবই প্রকাশ করে না, এটি সরাসরি নাগরিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ে খুঁটিগুলো সরানো না হলে ভবিষ্যতে সড়কটি মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হবে, বিঘ্নিত হবে বাজারের স্বাভাবিক যান চলাচল ও সার্বিক সৌন্দর্য।

এই দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি উন্মোচিত হয়েছে, তা হলো সেবা সংস্থাগুলোর আন্তঃসমন্বয় ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়। সাধারণত আমাদের দেশে সড়ক নির্মাণের কিছুদিন পরই অন্য কোনো সংস্থার কাজের জন্য আবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির এক অশুভ সংস্কৃতি দেখতে পাওয়া যায়। চলমান উন্নয়নকাজের সময়েই যদি বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে পুনরায় রাস্তা কাটার প্রয়োজন পড়বে না। এতে যেমন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ও সময় বাঁচবে, তেমনই কমবে জনগণের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ।

হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়ক বিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বয় সাধন করা এখন সময়ের দাবি। স্মারকলিপিতে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না ফেলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেন সমন্বয়হীনতার কারণে কেবল কাগজে-কলমে না থেকে বাস্তবে জনকল্যাণে আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়