বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৬৭

ভোটাররা আমার অতীতের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে আমাকেই বেছে নেবেন

—মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী

অনলাইন ডেস্ক
ভোটাররা আমার অতীতের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে আমাকেই বেছে নেবেন

২০০৭ সালে চাঁদপুর পৌরসভার আওতাভুক্ত হলেও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এখনো কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কাঁচা রাস্তা সংস্কার, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা দূর করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও অপরাধমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এবার মাঠে নেমেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী। তফুরুননিছা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রিধারী এই আলেম পরিবারগতভাবেই স্থানীয় জনসেবার সাথে যুক্ত। আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শেখ আল মামুন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানতে চাই।

মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী : ২০০৭ সালে এই এলাকা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা এখনো অধিকাংশ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উল্লেখ করার মতো কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাঁচা রাস্তা এখনো পাকা করা জরুরি, সঠিক ড্রেনেজ না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছে। বিগত দিনে যারা কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলেন, তারা টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেননি। পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। আমি নির্বাচিত হলে জনগণের অধিকার আদায়ে তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে চাই।

পরিবারগতভাবে আমার দাদা মরহুম হাজী জাফর আলী মিয়াজী এবং বাবা মরহুম নুরুল ইসলাম মিয়াজী পুরান বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা আজীবন মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ২০০০ সাল থেকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে জনসেবামূলক কাজ করে আসছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য আপনার প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী : আমার প্রথম তিনটি অগ্রাধিকার থাকবে—১. ওয়ার্ডের প্রতিটি পরিবারে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; ২. সকল কাঁচা রাস্তা দ্রুত পাকা ও চলাচলের উপযোগী করা; ৩. জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গৃহস্থালি বর্জ্য ও পানি অপসারণে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী : পৌরসভার পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার না পাওয়াই আমাদের প্রধান সমস্যা। আমার মূল পরিকল্পনা হলো—জনগণের সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ভোটাররা আপনাকেই কেন ভোট দেবেন বলে মনে করেন?

মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী : এলাকার প্রতিটি পরিবারের সাথে আমার বহুদিনের আত্মিক ও গভীর সম্পর্ক। জনপ্রতিনিধি না হয়েও সততার সাথে তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে আমার অতীত নিষ্ঠা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করেই ভোটাররা আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এই বিষয়ে আপনার অতিরিক্ত কিছু বলার আছে কি?

মাওলানা মোজাম্মেল মিয়াজী : ২০০৭ সালের পূর্বে এলাকাটি ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ছিলো এবং ২০০০ সালে আমি ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলাম। পরবর্তীতে এলাকাটি পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় আমি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি। বর্তমানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসায় আমি প্রার্থী হয়েছি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়