সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪

‘মানুষালয়’ নিয়ে সুরকার মুরাদ নূরের নবযাত্রা সফল হোক

অনলাইন ডেস্ক
‘মানুষালয়’ নিয়ে সুরকার মুরাদ নূরের নবযাত্রা সফল হোক

একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজের মূল ভিত্তি হলো মানবিক মূল্যবোধ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও আধুনিক শিক্ষা-সংস্কৃতির ভিড়ে শিশু-কিশোররা ক্রমেই যন্ত্রমুখী ও নৈতিক শিক্ষাবিমুখ হয়ে পড়ছে। প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যা জিপিএ-৫ বা ভালো ক্যারিয়ার গড়তে শেখালেও হৃদয়বৃত্তির বিকাশ ও সহানুভূতিশীল মানুষ তৈরিতে কতোটা ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জামালপুর গ্রামে ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যাত্রা শুরু করা মানবিক মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান ‘মানুষালয়’ একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সামাজিক পদক্ষেপ।

‘আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ’ এই শাশ্বত সত্যকে ধারণ করে সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুরাদ নূর তাঁর জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছেন। একজন সংস্কৃতিকর্মী কেবল শিল্প-সুরেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিকড়ের টানে গ্রামীণ শিশুদের জন্যে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সুরকার ও সংগীতজ্ঞ শেখ সাদী খানের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুধীজন যে মত প্রকাশ করেছেন, তার সারমর্ম একটাই-সমাজ বদলাতে হলে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। ‘মানুষালয়ে’র স্বপ্ন প্রতিটি গ্রামে একটি করে এমন মানবিক কেন্দ্র গড়ে তোলা।

উদ্যোগটি যতখানি মহৎ, এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ততটাই চ্যালেঞ্জিং। একটি সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ভর করে স্থানীয় শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের যৌথ সহযোগিতার ওপর। একক কোনো ব্যক্তির উদ্যোগে স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও, সেটিকে বটবৃক্ষে পরিণত করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং নিরবচ্ছিন্ন পৃষ্ঠপোষকতা। জামালপুর গ্রাম থেকে প্রজ্জ্বলিত এই মানবিক শিক্ষার আলো যেন সাময়িক আবেগে থমকে না যায়, সেদিকে উদ্যোক্তাদের সুদূরপ্রসারী ভাবনা থাকা জরুরি।

সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সেতুবন্ধন সফল রূপ পাক। মতলব উত্তর থেকে শুরু হওয়া ‘মানুষালয়’-এর এই যাত্রা ছড়িয়ে পড়ুক দেশের প্রতিটি প্রান্তে-এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়