সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮

স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৫৫

বিষ্ণুপুরকে আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই

----চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তার হোসেন বকাউল

আব্দুল্লাহ আল মামুন
বিষ্ণুপুরকে আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই
১ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আক্তার হোসেন বকাউল

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আলোচনায় রয়েছেন মো. আক্তার হোসেন বকাউল। তিনি বিষ্ণুপুর সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন সমাজকর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

বিএনপির কঠিন সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে চাঁদপুর কণ্ঠকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো—

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? জনগণের জন্যে আপনার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন কী?

আক্তার হোসেন বকাউল : ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করা। গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়াই ছিল আমার স্বপ্ন। সে চিন্তা থেকেই রাজনীতিতে এসেছি।

দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আমি চিন্তা-ভাবনা করে আসছি। ২০১৬ সালে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ২০২১ সালেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সে সময় আমাদের দলের কোনো প্রার্থী ছিল না এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনুকূল ছিল না। তারপরও আমি সাহস করে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছি।

বিএনপির দুর্দিনে আমি মাঠে ছিলাম। বিভিন্ন বাধা, মামলা ও পুলিশি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছি। অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারপরও দলীয় কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ বন্ধ করিনি।

আমি মনে করি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই আমার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।

আমি নির্বাচিত হলে ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

বিশেষ করে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই আমাকে স্নেহ করেন। তাঁর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে আমি সবসময় মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করতে চান, নাকি নির্দলীয়ভাবে?

আক্তার হোসেন বকাউল : আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০০২ সাল থেকে ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন যুবদলের দায়িত্ব পালন করেছি। এ কারণে আমি আশাবাদী, দল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। আমি দলীয় সমর্থন নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। একই সঙ্গে আমি জনগণের ওপরও আস্থাশীল। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মানুষ আমার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড ও তাদের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো কী? নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

আক্তার হোসেন বকাউল : আমার ইউনিয়নের অন্যতম বড় সমস্যা মাদক। আমি নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই। যুবসমাজকে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও কর্মমুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গ্রামীণ রাস্তা এখনো কাঁচা বা সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষাকালে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারজাত করতে পারেন না।

নির্বাচিত হলে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো উন্নয়ন ও টেকসই করার উদ্যোগ নেবো। ইউনিয়নের নিজস্ব বরাদ্দও যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবো। যুবসমাজের জন্যে পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগও প্রয়োজন। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং যুব উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবায় জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?

আক্তার হোসেন বকাউল : সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে যেনো কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না।সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে চাই। নিয়মিত উন্মুক্ত বাজেট সভা ও গ্রাম সভার আয়োজন করা হবে। জনগণ যাতে ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। সম্ভব হলে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেবো, যাতে সাধারণ মানুষ মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সরাসরি সেবা নিতে পারেন। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং পরিষদের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি নির্বাচিত না হলেও কি জনগণের পাশে থাকবেন?

আক্তার হোসেন বকাউল : ইনশাল্লাহ আমি নির্বাচিত হই বা না হই, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো। বিগতদিনেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাইনি। ভবিষ্যতেও মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করবো। নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করবো। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবো। বিষ্ণুপুর সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে ইউনিয়নের মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভোটাররা কেনো আপনাকে বেছে নেবেন বলে আপনি মনে করেন?

আক্তার হোসেন বকাউল : সব প্রার্থী থেকে আমি তরুণ, সে কারণে তরুণরা আমাকে বেছে নিবে। আমি মনে করি, জনগণ একজন প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং প্রতিকূল সময়ে তাঁর ভূমিকা বিবেচনা করবেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দলের কঠিন সময়েও মাঠে থাকার চেষ্টা করেছি। মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি, তারপরও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রেখেছি। আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের সেবা করা। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান—আপনারা প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, যোগ্যতা ও মানুষের পাশে থাকার ইতিহাস বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাকে যদি জনগণ সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে তাঁদের আস্থার মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?

আক্তার হোসেন বকাউল : রাজনীতি আমার কাছে ব্যবসা নয়; মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় থেকে সরে যাইনি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের ভালোবাসা ও দোয়া একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আগামী নির্বাচনে জনগণ যদি আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

আমি দল-মত নির্বিশেষে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সব মানুষের সহযোগিতা চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়