প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব
প্রসঙ্গ : নবী করিম (দ.)-এর দেহ মোবারক নূর-নাকি মাটি?

আমরা প্রথম সৃষ্টিতে প্রমাণ পেলাম - আল্লাহর জাত হতে, অর্থাৎ জাতি নূরের জ্যোতি হতে রাসূল (দঃ) পয়দা হয়েছেন। সাহাবী জাবের (রা.) কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদীস- অর্থাৎ স্বয়ং নবী করিম (দঃ)-এঁর জবানে বর্ণিত হাদিস দ্বারা হুযূর (দঃ) নূরের সৃষ্টি বলে প্রমাণিত হয়েছে। মাটি, পানি, আগুন, বায়ু এই উপাদান চতুষ্টয় যখন পয়দাই হয়নি তখন আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) পয়দা হয়েছেন। সুতরাং তিনি যে মাটির সৃষ্টি নন এবং মাটি সৃষ্টির পূর্বেই পয়দা -একথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো।
কিন্তু আলমে নাছুত - অর্থাৎ পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশের সময় যে বশরী সূরত বা মানব শরীর ধারণ করেছেন, তা কিসের তৈরী- এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত লক্ষ্য করা যায়। যেমন- তাবেয়ী হযরত কা’ব আহবার (র.) এবং সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত কথিত দুটি হাদীস বা রেওয়ায়েতে দেখা যায় যে, নবী করিম (দঃ)-এঁর দেহ মোবারক মদিনা শরীফের রওজা মোবারকের খামিরা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ দু’খানা রেওয়ায়েতকে পুঁজি করে একদল ওলামা বলেন- হুযূর (দঃ) মাটির তৈরি। বাতিলপন্থী কোনো কোনো আলেম আবার ঠাট্টা করে বলেন- তিনি তো সাদা মাটির তৈরী (নাউযুবিল্লাহ)। মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুল করিম রচিত ‘তাওহীদ রিসালাত ও নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি রহস্য’ নামক বইখানা দ্রষ্টব্য। উক্ত বইয়ে আল্লাহকেও নূর বলে অস্বীকার করা হয়েছে।
(নাউযুবিল্লাহ)।
আবার সহীহ রেওয়ায়েতে দেখা যায় যে, হুযূর (দঃ) নূর হয়েই আদম (আ.)-এঁর সাথে জগতে তশরীফ এনেছেন এবং আল্লাহর কুদরতে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঐ নূর এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে হযরত আব্দুল্লাহ (রা.)-এঁর পৃষ্ঠ হতে ঐ পবিত্র নূর সরাসরি হযরত আমেনা (রা.)-এঁর গর্ভে স্থান লাভ করেছেন এবং যথাসময়ে নূরের দেহ ধারণ করে মানব আকৃতি নিয়ে দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন।
পর্যালোচনা : উক্ত দুই মতবাদের মধ্যে কোনটি সঠিক তা যাচাই-বাছাই করলে দেখা যাবে যে, ইলমে হাদীসের নীতিমালার আলোকে দ্বিতীয় মতবাদটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। তাই প্রথমে মাটির রেওয়ায়েত দুটি উসূলে হাদীসের নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা দরকার। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত কথিত হাদীসখানা নিম্নরূপÑ
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এঁর রেওয়ায়েতে রাসূলাল্লাহ [ﷺ] বলেন- ‘নবজাতক প্রত্যেক শিশুর নাভিতে মাটির একটি অংশ রাখা হয়। সেখানেই সে সমাধিস্থ হয়।’ তিনি আরো বলেন- ”আমি, আবু বকর ও ওমর একই মাটি হতে সৃজিত হয়েছি এবং সেখানেই সমাধিস্থ হবো।” (তাফসীরে মাযহাবী ও খতীবে বাগদাদীর ’আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক)
উক্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মোহাদ্দিসগণের মতামত : খতীবে বাগদাদী (র.) এই রেওয়ায়েতটি তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেন- ‘হাদিসটি গরীব।’ ‘গরীব হাদিস’ বলা হয় প্রতি যুগে মাত্র একজন বর্ণনাকারীই উক্ত রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন- দ্বিতীয় কোনো বর্ণনাকারী নেই। গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গরীব হাদীস দ্বারা কোনো আইনী বিষয় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। [উসূলে হাদীস দ্রষ্টব্য।]
হাদীসশাস্ত্র বিশারদ আল্লামা ইবনে জওযী বলেন- ‘এই হাদিসটি মওযু ও বানোয়াট। এই দুটি মতামত স্বয়ং তাফসীরে মারেফুল কোরআন-এর বাংলা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, সৌদি আরবে ছাপা, পৃষ্ঠা- ৮৫৬ এ উল্লেখ করা হয়েছে। রেওয়ায়েত হিসাবে প্রত্যেক লেখকের কিতাবেই এটি পাওয়া যায়। কিন্তু এর নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করেন হাদীসের ‘জোরাহ ও তাদীল’ বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ। ইবনে জওযী’র মতামতের গুরুত্ব প্রত্যেক হাদীস বিশারদের নিকটই স্বীকৃত।সুতরাং একটি গরীব, জাল, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রেওয়ায়েতের উপর নির্ভর করে রাসূলে পাক (দঃ)-এঁর দেহ মোবারককে মাটির দেহ বলা অসঙ্গত। জাল হাদীস তৈরীতে রাফেযী ও বাতিল ফেরকাগুলি ঐ যুগে তৎপর ছিল। তারা সাহাবী ও তাবেয়ীগণের নাম ব্যবহার করে ভিত্তিহীন হাদীস তৈরী করতো।
কা’ব আহবারের রেওয়ায়েত বিশ্লেষণ : হযরত কা’ব আহবার (তাবেয়ী) বলেন, ”যখন আল্লাহ পাক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)-কে (দেহকে) সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন। তখন তিনি জিব্রাইল (আ.)কে এমন একটি খামিরা নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ করলেন- যা ছিল পৃথিবীর “কলব, আলো ও নূর” (মাটি নয়)। এই নির্দেশ পেয়ে জিব্রাইল (আ.) জান্নাতুল ফেরদাউস এবং সর্বোচ্চ আসমানের ফেরেশতাদের নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করলেন। অতঃপর রাসূলে পাকের রওযা শরীফের স্থান থেকে এক মুষ্টি খামিরা নিয়ে নিলেন। তা ছিল সাদা আলোময় নূর। পরে উক্ত খামিরাকে বেহেশতে প্রবাহিত নহরসমূহের মধ্যে ‘তাছনীম’ নামক নহরের পানি দিয়ে গোলানোর ফলে সেটি এমন একটি শুভ্র মুক্তার আকার ধারণ করলো, যার মধ্যে ছিল বিরাট আলোশিখা। অতঃপর ফেরেশতারা প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে উক্ত মুক্তা আকৃতির আলোময় খামিরা নিয়ে আরশ-কুরছি, আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত ও সাগর-মহাসাগরের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করলেন। এভাবে ফেরেশতাকূল ও অন্যান্য সকল মাখলুক হযরত আদম (আ.)-এঁর পরিচয় পাওয়ার পূর্বেই আমাদের সর্দার ও মুনিব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)-এঁর ফযীলত সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করলো। (মাওয়াহেবে লাদুনিয়া) (চলবে)
সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)। সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।ছবি-০৭
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব
প্রসঙ্গ : নবী করিম (দ.)-এর দেহ মোবারক নূর-নাকি মাটি?
আমরা প্রথম সৃষ্টিতে প্রমাণ পেলাম - আল্লাহর জাত হতে, অর্থাৎ জাতি নূরের জ্যোতি হতে রাসূল (দঃ) পয়দা হয়েছেন। সাহাবী জাবের (রা.) কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদীস- অর্থাৎ স্বয়ং নবী করিম (দঃ)-এঁর জবানে বর্ণিত হাদিস দ্বারা হুযূর (দঃ) নূরের সৃষ্টি বলে প্রমাণিত হয়েছে। মাটি, পানি, আগুন, বায়ু এই উপাদান চতুষ্টয় যখন পয়দাই হয়নি তখন আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) পয়দা হয়েছেন। সুতরাং তিনি যে মাটির সৃষ্টি নন এবং মাটি সৃষ্টির পূর্বেই পয়দা -একথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো।
কিন্তু আলমে নাছুত - অর্থাৎ পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশের সময় যে বশরী সূরত বা মানব শরীর ধারণ করেছেন, তা কিসের তৈরী- এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত লক্ষ্য করা যায়। যেমন- তাবেয়ী হযরত কা’ব আহবার (র.) এবং সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত কথিত দুটি হাদীস বা রেওয়ায়েতে দেখা যায় যে, নবী করিম (দঃ)-এঁর দেহ মোবারক মদিনা শরীফের রওজা মোবারকের খামিরা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ দু’খানা রেওয়ায়েতকে পুঁজি করে একদল ওলামা বলেন- হুযূর (দঃ) মাটির তৈরি। বাতিলপন্থী কোনো কোনো আলেম আবার ঠাট্টা করে বলেন- তিনি তো সাদা মাটির তৈরী (নাউযুবিল্লাহ)। মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুল করিম রচিত ‘তাওহীদ রিসালাত ও নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি রহস্য’ নামক বইখানা দ্রষ্টব্য। উক্ত বইয়ে আল্লাহকেও নূর বলে অস্বীকার করা হয়েছে।
(নাউযুবিল্লাহ)।
আবার সহীহ রেওয়ায়েতে দেখা যায় যে, হুযূর (দঃ) নূর হয়েই আদম (আ.)-এঁর সাথে জগতে তশরীফ এনেছেন এবং আল্লাহর কুদরতে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঐ নূর এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে হযরত আব্দুল্লাহ (রা.)-এঁর পৃষ্ঠ হতে ঐ পবিত্র নূর সরাসরি হযরত আমেনা (রা.)-এঁর গর্ভে স্থান লাভ করেছেন এবং যথাসময়ে নূরের দেহ ধারণ করে মানব আকৃতি নিয়ে দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন।
পর্যালোচনা : উক্ত দুই মতবাদের মধ্যে কোনটি সঠিক তা যাচাই-বাছাই করলে দেখা যাবে যে, ইলমে হাদীসের নীতিমালার আলোকে দ্বিতীয় মতবাদটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। তাই প্রথমে মাটির রেওয়ায়েত দুটি উসূলে হাদীসের নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা দরকার। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত কথিত হাদীসখানা নিম্নরূপÑ
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এঁর রেওয়ায়েতে রাসূলাল্লাহ [ﷺ] বলেন- ‘নবজাতক প্রত্যেক শিশুর নাভিতে মাটির একটি অংশ রাখা হয়। সেখানেই সে সমাধিস্থ হয়।’ তিনি আরো বলেন- ”আমি, আবু বকর ও ওমর একই মাটি হতে সৃজিত হয়েছি এবং সেখানেই সমাধিস্থ হবো।” (তাফসীরে মাযহাবী ও খতীবে বাগদাদীর ’আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক)
উক্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মোহাদ্দিসগণের মতামত : খতীবে বাগদাদী (র.) এই রেওয়ায়েতটি তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেন- ‘হাদিসটি গরীব।’ ‘গরীব হাদিস’ বলা হয় প্রতি যুগে মাত্র একজন বর্ণনাকারীই উক্ত রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন- দ্বিতীয় কোনো বর্ণনাকারী নেই। গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গরীব হাদীস দ্বারা কোনো আইনী বিষয় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। [উসূলে হাদীস দ্রষ্টব্য।]
হাদীসশাস্ত্র বিশারদ আল্লামা ইবনে জওযী বলেন- ‘এই হাদিসটি মওযু ও বানোয়াট। এই দুটি মতামত স্বয়ং তাফসীরে মারেফুল কোরআন-এর বাংলা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, সৌদি আরবে ছাপা, পৃষ্ঠা- ৮৫৬ এ উল্লেখ করা হয়েছে। রেওয়ায়েত হিসাবে প্রত্যেক লেখকের কিতাবেই এটি পাওয়া যায়। কিন্তু এর নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করেন হাদীসের ‘জোরাহ ও তাদীল’ বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ। ইবনে জওযী’র মতামতের গুরুত্ব প্রত্যেক হাদীস বিশারদের নিকটই স্বীকৃত।
সুতরাং একটি গরীব, জাল, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রেওয়ায়েতের উপর নির্ভর করে রাসূলে পাক (দঃ)-এঁর দেহ মোবারককে মাটির দেহ বলা অসঙ্গত। জাল হাদীস তৈরীতে রাফেযী ও বাতিল ফেরকাগুলি ঐ যুগে তৎপর ছিল। তারা সাহাবী ও তাবেয়ীগণের নাম ব্যবহার করে ভিত্তিহীন হাদীস তৈরী করতো।
কা’ব আহবারের রেওয়ায়েত বিশ্লেষণ : হযরত কা’ব আহবার (তাবেয়ী) বলেন, ”যখন আল্লাহ পাক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)-কে (দেহকে) সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন। তখন তিনি জিব্রাইল (আ.)কে এমন একটি খামিরা নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ করলেন- যা ছিল পৃথিবীর “কলব, আলো ও নূর” (মাটি নয়)। এই নির্দেশ পেয়ে জিব্রাইল (আ.) জান্নাতুল ফেরদাউস এবং সর্বোচ্চ আসমানের ফেরেশতাদের নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করলেন। অতঃপর রাসূলে পাকের রওযা শরীফের স্থান থেকে এক মুষ্টি খামিরা নিয়ে নিলেন। তা ছিল সাদা আলোময় নূর। পরে উক্ত খামিরাকে বেহেশতে প্রবাহিত নহরসমূহের মধ্যে ‘তাছনীম’ নামক নহরের পানি দিয়ে গোলানোর ফলে সেটি এমন একটি শুভ্র মুক্তার আকার ধারণ করলো, যার মধ্যে ছিল বিরাট আলোশিখা। অতঃপর ফেরেশতারা প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে উক্ত মুক্তা আকৃতির আলোময় খামিরা নিয়ে আরশ-কুরছি, আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত ও সাগর-মহাসাগরের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করলেন। এভাবে ফেরেশতাকূল ও অন্যান্য সকল মাখলুক হযরত আদম (আ.)-এঁর পরিচয় পাওয়ার পূর্বেই আমাদের সর্দার ও মুনিব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)-এঁর ফযীলত সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করলো। (মাওয়াহেবে লাদুনিয়া) (চলবে)
সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)। সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।







