শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫

আর কত প্রাণ গেলে জাগবে প্রশাসন?

অনলাইন ডেস্ক
আর কত প্রাণ গেলে জাগবে প্রশাসন?

মতলব-বাবুরহাট-পেন্নাই সড়কে আবারও ঝরল একটি তাজা প্রাণ। একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের সড়কব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল তদারকি এবং দায়িত্বহীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের কর্মীরা বাস চলাচল বন্ধ করে প্রতিবাদে নেমেছেন। পরে সচেতন সমাজ মানববন্ধন করে ফিটনেসবিহীন বাস, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অদক্ষ হেলপারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। প্রশ্ন হলোÑএই দাবিগুলো কি নতুন? মোটেও নয়। দীর্ঘদিন ধরেই একই অভিযোগ উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সেই অভিযোগ আজ রূপ নিয়েছে ক্ষোভে, আর সেই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে একের পর এক প্রাণহানির বেদনা।

যদি সত্যিই কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের বৈধ ফিটনেস না থাকে, চালকদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকে কিংবা অদক্ষ ব্যক্তি স্টিয়ারিং ধরে থাকে, তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়; এটি মানুষের জীবন নিয়ে বিপজ্জনক খেলা। সড়কে চলাচলের অধিকার যেমন পরিবহন মালিকদের রয়েছে, তেমনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর অধিকার প্রতিটি যাত্রীরও রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ব।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এটি শুধু আইনের শাসনের দুর্বলতাই নয়, বরং দুর্ঘটনার পর জবাবদিহির সংস্কৃতির অভাবও প্রকাশ করে। অপরাধীরা যদি সহজেই পালিয়ে যেতে পারে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে এই ভোগান্তির মূল কারণ আন্দোলন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোকে অবহেলা করা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আজ হয়তো একটি পরিবার তাদের স্বজনকে হারাত না, আবার হাজারো মানুষও যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়তেন না।

প্রশাসনের কাছে এখন আর আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। সংশ্লিষ্ট সড়কে চলাচলকারী সব বাসের ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অনিয়মে জড়িত যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনে চালকদের স্বাস্থ্য ও মাদক পরীক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

একটি সভ্য সমাজে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর শুধু শোক প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; দুর্ঘটনার কারণ দূর করাই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি প্রাণের মূল্য সমান। তাই আর কোনো পরিবারের কান্না, আর কোনো মায়ের বুক খালি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর বিলম্বের সুযোগ নেই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়