বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩

কৃতী খেলোয়াড় ও সাবেক জনপ্রতিনিধির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক

অনলাইন ডেস্ক
কৃতী খেলোয়াড় ও সাবেক জনপ্রতিনিধির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক

চাঁদপুরের বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ খন্দকার মজিবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর স্মৃতি মন থেকে মুছে না যেতেই আরেকজন ক্রীড়াবিদের মৃত্যু সংবাদে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো। তিনি হলেন চৌধুরী মাহবুব মদিনা। তিনি ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কিংবদন্তিতুল্য সাংবাদিক মরহুম অ্যাড. আ. খালেক চৌধুরীর ছেলে। একজন জনপ্রিয় ফুটবলার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতির জন্যে তিনি চাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। চৌধুরী মাহবুব মদিনা সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দামোদরদী চৌধুরী বাড়ি। তবে চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা এলাকায় তাঁদের পৈত্রিকবাড়ি রয়েছে। মরহুমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বাদ জোহর ঢাকা শ্যামলী আদাবরে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মেয়ে আমেরিকা থেকে আসছেন বাবাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে। তাই মেয়ের জন্যে অপেক্ষায় রেখে আজ বুধবার (২৯ জুলাই) মরহুমকে দাফন করা হবে। ঢাকা জিন্দাবাজারে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হবে। চৌধুরী মাহবুব মদিনা দু কন্যা সন্তানের জনক। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর হয়েছিলো বলে জানা গেছে।

চৌধুরী মাহবুব মদিনা চাঁদপুরের মাঠ কাঁপানো কৃতী ফুটবলার ছিলেন। আরেক কৃতী ফুটবলার, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন জনু জানান, মদিনা ভাই আমাদের সিনিয়র ছিলেন। তিনি ইন্টার স্কুল টিম থেকে ফুটবল খেলা শুরু করেন। তিনি চাঁদপুরের মাঠ কাঁপানো তুখোড় ফুটবলার ছিলেন। আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই প্রথম চাঁদপুরের জনপ্রতিনিধি তথা চাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। তিনি অত্যন্ত ভালো এবং সজ্জন মানুষ ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ পাক যেনো তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।

সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আশির দশকব্যাপী যারা চাঁদপুর স্টেডিয়ামে এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফুটবল খেলা উপভোগ করেছেন, নিশ্চয়ই তাদের মনে আছে, মাহবুব মদিনা কতোটা তুখোড় ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর পায়ে বল গেলেই দর্শকরা উল্লসিত হয়ে পড়তেন এমনটা ভেবে যে, এবার কিছু একটা হবে। তাঁর খেলায় ছন্দ ছিলো। যে কারণে দর্শকমাত্রই বিমুগ্ধ হতো।

চাঁদপুর শহরে নিজের পৈত্রিক ভিটা ডেভলপারকে দিয়ে কার্যত মাহবুব মদিনারা ঢাকামুখী হয়ে যান। ডেভলপারের চুক্তিভঙ্গে জীবনের শেষ অধ্যায়ে অনেক মানসিক কষ্টে ছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। এর মধ্যে যখন সুদিন আসলো, অনেকটা আকস্মিকভাবে মাহবুব মদিনা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন। চাঁদপুরে স্থায়ীভাবে ফিরে আসা হলো না তাঁর। ঢাকাতেই তাঁর মৃত্যু হলো এবং সেখানেই চিরস্থায়ী ঠিকানা হলো তাঁর। এটা একটা দুর্ভাগ্য। দীর্ঘ জীবন পেলে মাহবুব মদিনা হয়তো আবার চাঁদপুরে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করতেন। কিন্তু সেটা আর হলো না। আমরা তাঁর জন্যে চাঁদপুর জেলাবাসীর পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করছি, তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়