প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২০:১০
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
পশ্চিম সকদীতে ক্লাস চলাকালে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে পানিতে ডুবে আয়েশা জাহান নোমেরা (১১) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
|আরো খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নোমেরা সকালে বিদ্যালয়ে আসে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশের ডাকাতিয়া নদীর তীরে চলে যায়। সেখানে খেলাধুলার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর নামে এক ব্যক্তি নদীর শাখায় মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশে স্থাপিত। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঘেরা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালেও অনেক শিক্ষার্থী নদীর তীরে ও পাশের সড়কে চলে গেলেও শিক্ষকরা সেদিকে যথাযথ নজরদারি করেন না।
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত তদারকি থাকলে নোমেরার মতো একটি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে পড়তো না। তারা এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মুনসুর খান বলেন, “খবর পেয়ে স্কুলের কাছে এসে দেখি মরদেহ ইটভাটার পাশে রাখা হয়েছে। পরে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা বেগম বলেন, “পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানাননি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানলাম।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেজি স্কুল আমাদের তত্ত্বাবধানে নয়; এগুলো নিজেরাই পরিচালনা করে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।








