বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৯:২২

ইভটিজারের বিরাট অর্থদণ্ড!

অনলাইন ডেস্ক
ইভটিজারের বিরাট অর্থদণ্ড!

‘শিশু শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ৪ জনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা’ শিরোনামে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে একটি সংবাদ প্রথম পৃষ্ঠায় খুবই গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদটিতে মো. মঈনুল ইসলাম কাজল লিখেছেন, শাহরাস্তিতে শিশু শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে চার শিক্ষার্থীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন এ জরিমানা করেন। জানা গেছে, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের মনিরা আজিম একাডেমির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ৫ জন মিলে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করে, তারা হলো : কসবা গ্রামের মো. রাকিবুল হাসান (১৮), তানজিল ছিদ্দিক সৌরভ (১৮), আহসিম বিল্লাহ তানি (১৮) ও রায়ের বাগ গ্রামের আশ্রাফুল করিম (১৮)। অন্যদিকে তেতৈশ্বর গ্রামের মো. মনির হেসেনের ছেলে মাহফুজ আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে মাহফুজ আলমের পিতা মনির হোসেন ছেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা করবে না মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেনকে মুচলেকা দেন।

আমাদের জানা মতে, স্মরণকালে ইভটিজিং করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইভটিজারকে এতোটা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় নি। একজন শিশু শিক্ষার্থীকে পাঁচজন ইভটিজার উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি যে চরম মাত্রার বাড়াবাড়িÑসেটা বলা যায় অকপটে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারী হবার কারণে তিনি ইভটিজিংয়ে একজন মেয়েশিশুর মানসিক কষ্টটাকে খুবই সংবেদনশীলতার সাথে উপলব্ধি করেছেন বলে মনে হচ্ছে এবং সেজন্যে তিনি আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে ইভটিজারকে বিরাট অংকের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এটা যে কঠোর শাস্তি--সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে?

ইভটিজিং নূতন কোনো ঘটনা নয়। কোথাও বেশি হয়, আর কোথাও কম। ইভটিজার টিনএজ থেকে শুরু করে নানা বয়সী হয়। সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষায় গড়ে ওঠা অধিক সংখ্যক মানুষের শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজে ইভটিজারের সংখ্যা থাকে নগণ্য ও ইভটিজিং থাকে নিয়ন্ত্রিত। এমন সমাজ যেখানে নেই, সেখানে ইভটিজারের সংখ্যা বেশি এবং ইভটিজিংয়ে তারা থাকে বেপরোয়া। এদের কারণে উঠতি বয়সী মেয়ের বাবা, মা ও ভাই কিংবা অন্য অভিভাবক থাকে নানা চিন্তা ও আশঙ্কায় উদগ্রীব। তারা অসহায়ত্ব বোধ করে প্রতিনিয়ত। ছেলে সন্তানরা পরিবার থেকে ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিকতা ও শিষ্টাচার যদি না শিখতে পারে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তাদের বখে যাওয়াটা রোধ করা যায় না। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে কেবল ইভটিজিং নয়, বহুবিধ কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের সমাজবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে প্রতিকারের উপায় খুঁজে দিতে কাজ করা জরুরি বলে মনে করি। স্মর্তব্য, কেবল পুলিশি অ্যাকশন ও শাস্তিতে ইভটিজিং সহ কিছু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা যায় না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়