প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৬:৫২
রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামির বিচারের দাবিতে মতলব উত্তরে মানববন্ধন

মতলব উত্তর উপজেলার লবাইরকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন প্রধান হত্যার ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) এ মানববন্ধন করা হয়। এতে নিহত রিপনের পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী অংশ নেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে ব্যবসায়ী রিপন প্রধান হত্যার ঘটনা ঘটে।
|আরো খবর
মানববন্ধনে ব্যানারে ছেলের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত রিপনের মা সূর্য বানু। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে আমার সব দেখাশোনা করতো। খুব আদর করে মানুষ করেছি। বিয়ের পর তার কালপ্রিট বউ আমার ছেলেকে কব্জা করে সব নিয়ে গেছে। ছেলে বলেছিলো বাড়িতে বিল্ডিং করবে, সেই টাকাগুলোও নিয়ে গেছে। আমার সেই ছেলেটাকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহতের বোন হাসিনা বেগম বলেন, আমার ভাইকে তার কালপ্রিট স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে এনে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের বন্ধু হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস আগে আমার বন্ধু রিপন প্রধানকে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার ফোন করে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। আমরা চাঁদপুর হাসপাতালে গিয়ে দেখি মর্গে লাশ পড়ে আছে, কিন্তু যারা তাকে হাসপাতালে এনেছিলো তারা কেউ সেখানে ছিলো না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) বিকেলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মধ্য নাগদা গ্রামে স্ত্রী খাদিজা বেগমের বাড়িতে যান রিপন প্রধান। নিহতের পরিবারের দাবি, সেখানে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করে এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে বিষপানের নাটক সাজানো হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রিপনের
বড়োভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিপনের স্ত্রী খাদিজা বেগমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। বর্তমানে মামলার তদন্তভার রয়েছে মতলব দক্ষিণ থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের কাছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







