বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৯:২৬

ভিউ’র নেশায় নীতি বিসর্জন

প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া বিনোদন সাংবাদিকতা কি এখন নায়িকাদের ‘টপ অ্যাঙ্গেল’ ট্র্যাপে বন্দি?

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া বিনোদন সাংবাদিকতা কি এখন নায়িকাদের ‘টপ অ্যাঙ্গেল’ ট্র্যাপে বন্দি?

গত দশ বছরে বাংলাদেশের বিনোদন সাংবাদিকতা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। একসময় শুধু দৈনিক পত্রিকার শেষ পাতা আর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের ভরসায় থাকা এই শাখাটি এখন ২৪ ঘণ্টা লাইভ। স্মার্টফোন, সস্তা ইন্টারনেট আর ফেসবুক-ইউটিউবের অ্যালগরিদম মিলে ‘বিনোদন খবর’কে সবার হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। শুটিং স্পট থেকে নায়ক-নায়িকার লাইভ, ওটিটি রিলিজের তাৎক্ষণিক রিভিউ, এমনকি তারকাদের বেডরুমের খুনসুটিও এখন কয়েক সেকেন্ডে ভাইরাল।

প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা একদিকে পাঠকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, প্রান্তিক শিল্পীদের কণ্ঠ পৌঁছে দিয়েছে জাতীয় পর্যায়ে। কিন্তু একই প্রযুক্তি জন্ম দিয়েছে ‘ভিউ বাণিজ্য’ নামের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার। যেখানে ক্লিক, লাইক, শেয়ার আর ওয়াচটাইমই শেষ কথা। আর এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে নারী শিল্পীদের বিশেষ করে নায়িকাদের। ‘টপ অ্যাঙ্গেল’, ‘জুম ইন’, ‘ওয়ারড্রোব ম্যালফাংশন’, ‘হট এন্ট্রি এই শব্দগুলো এখন বাংলাদেশের বিনোদন কন্টেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বিক্রিত কীওয়ার্ড।

প্রশ্ন উঠছে : প্রযুক্তি কি তবে বিনোদন সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিয়ে গেল, নাকি নৈতিকতার প্রশ্নে একে কয়েক দশক পিছিয়ে দিলো?

১. প্রযুক্তি কীভাবে বিনোদন সাংবাদিকতাকে পাখা মেলতে দিলো

ক. গেটকিপার ভেঙে যাওয়া :

আগে কোনো খবর প্রকাশ হবে কি না, তা ঠিক করতেন পত্রিকার সম্পাদক। এখন যে কারও হাতে ক্যামেরা আর ইন্টারনেট থাকলেই তিনি ‘সাংবাদিক’। ফেসবুক পেজ খুলে, ইউটিউব চ্যানেল করে মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে। ফলে প্রান্তিক জেলার নাট্যদল, নতুন ইউটিউবার, টিকটক আর্টিস্টÑসবাই মূলধারার আলো পাচ্ছে।

খ. গতি ও ব্যাপ্তি :

শাকিব খান নতুন ছবি সাইন করলেন, সেই খবরটি ছাপতে আগে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এখন সাইনিং শেষ হওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ফেসবুক লাইভে চলে আসে। ফলে পাঠক-দর্শক ‘রিয়েল টাইমে’ যুক্ত থাকতে পারছেন।

গ. আয়ের গণতন্ত্রীকরণ :

গুগল অ্যাডসেন্স, ফেসবুক মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড স্পনসরশিপÑএই ইকোসিস্টেমের কারণে হাজারো তরুণ এখন ‘বিনোদন কন্টেন্ট’ বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেকেই সাংবাদিকতা পড়েননি, কিন্তু ক্যামেরা চালাতে জানেন। এটা পেশার পরিধি বাড়িয়েছে।

ঘ. দর্শকের অংশগ্রহণ :

কমেন্ট, রিয়্যাকশন, পোলÑএসবের মাধ্যমে দর্শক এখন সরাসরি কন্টেন্টে প্রভাব ফেলছেন। কোন্ নায়িকার সাক্ষাৎকার চাই, কোন্ গুজবের সত্যতা যাচাই দরকারÑদর্শকই তা ঠিক করে দিচ্ছেন।

২. ‘ভিউ বাণিজ্য’ কী এবং কেন এটি : নীতি-নৈতিকতাকে খেয়ে ফেলছে

‘ভিউ বাণিজ্য’; মানে হলো কন্টেন্টের গুণমান নয়, কতোজন দেখলো সেটাই মুখ্য। কারণ প্রতিটি ভিউ মানে পয়সা। ১ হাজার ভিউতে যদি ১ ডলার আসে, তাহলে ১০ লাখ ভিউ মানে ১ হাজার ডলার। এই সহজ অঙ্কটাই পুরো খেলাটা পাল্টে দিয়েছে।

সমস্যাটা কোথায়?

১. সেনসেশনালাইজেশন : ‘জয়া আহসান রাতে কার সঙ্গে’Ñএই ধরনের হেডলাইন দিয়ে ভেতরে হয়তো সাধারণ একটি ডিনারের খবর। দর্শক ক্লিক করে প্রতারিত হন, আর নায়িকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. গতি বনাম নির্ভুলতা : ‘আগে দিতে হবে’Ñএই তাড়নায় ফ্যাক্টচেক করার সময় নেই। ফলে গুজবই খবর হয়ে যায়। পরে ভুল স্বীকার করলেও ভিউ তোলা হয়ে গেছে।

৩. ব্যক্তিগত পরিসরের বিলুপ্তি : লাইভে থাকা মানেই তারকার অনুমতি নিয়ে নিয়েছিÑএই ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। রেস্টুরেন্টে পরিবারের সাথে খেতে বসা নায়িকার অগোচরে ‘লাইভ’ চালিয়ে দেওয়া এখন ডেইলি কন্টেন্ট।

৪. নারীকে পণ্য বানানো : অ্যালগরিদম বলে দিয়েছে নারী শরীর দেখালে ওয়াচটাইম বাড়ে। ফলে সাক্ষাৎকারের চেয়ে ‘কে কতোটা খোলামেলা পোশাক পরলো’ সেটাই মুখ্য হয়ে উঠছে।

৫. জবাবদিহিতার অভাব : প্রেস কাউন্সিল বা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোনো নিয়ম ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের জন্যে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ‘আমি তো সাংবাদিক না, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’Ñএই অজুহাতে পার পেয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

৩. বাংলাদেশে ‘টপ অ্যাঙ্গেল’ কালচার : নায়িকাদের মানহানি কীভাবে হচ্ছে

‘টপ অ্যাঙ্গেল’ বলতে বোঝায় এমন ক্যামেরা পজিশন, যেখানে ওপর থেকে তির্যকভাবে শট নেওয়া হয়। রেড কার্পেট, অ্যাওয়ার্ড শো, সিনেমার প্রিমিয়ার, এমনকি শপিং মল উদ্বোধনে নায়িকারা যখন সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন বা ঝুঁকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন, তখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়।

কৌশলগুলো দেখুন :

১. ইভেন্ট কাভারেজের নামে ফাঁদ :

ইভেন্টে আমন্ত্রিত ভিডিও ক্রিয়েটররা নায়িকার সামনে নয়, পেছনে বা সিঁড়ির ওপরে পজিশন নেন। উদ্দেশ্য একটাইÑ‘ক্লিভেজ শট’ বা ‘ওয়ারড্রোব ম্যালফাংশন’ ধরা। ১ সেকেন্ডের একটি ফ্রেমকে স্লো-মোশন করে ১০ সেকেন্ডের ‘এক্সক্লুসিভ’ বানানো হয়।

২. থাম্বনেইল ও ক্যাপশন টেরর :

ভিডিওর ভেতরে হয়তো তেমন কিছুই নেই। কিন্তু থাম্বনেইলে লেখা হয় : ‘একি করলেন মাহি! দেখুন ভাইরাল ভিডিও’। সাথে নায়িকার অস্বস্তিকর এক্সপ্রেশনের স্ক্রিনশট। দর্শক ক্লিক করেন, নায়িকা হন হেনস্তার শিকার।

৩. ‘ফ্যাশন পুলিশ’ সেজে বডি শেমিং :

‘পরীমনির পোশাক নিয়ে তোলপাড়’, ‘বুবলির ড্রেস সেন্স কি রুচিহীন?’Ñএই ধরনের কন্টেন্টে নায়িকার পোশাকের ‘জুম ইন’ শট দেখিয়ে কমেন্ট বক্সকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় গালাগালির জন্য। এটা মতপ্রকাশ নয়, সরাসরি সাইবার বুলিংয়ে উসকানি।

৪. পুরনো ভিডিওকে নতুন মোড়কে পরিবেশন :

তিন বছর আগের কোনো অনুষ্ঠানের ২ সেকেন্ডের ক্লিপ কেটে ‘গতকাল রাতের ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। নায়িকাকে তখন আবার নতুন করে ট্রলের মুখে পড়তে হয়।

৫. ডিপফেক ও এআইয়ের অপব্যবহার :

সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভয়ঙ্কর প্রবণতা হলো এআই দিয়ে নায়িকার মুখ বসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও বানানো। তারপর ‘দেখুন তো আসল না নকল?’ ক্যাপশন দিয়ে ভিউ কামানো। প্রযুক্তি এখানে অস্ত্র।

ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে?

ক. মানসিক ট্রমা : অনেক নায়িকাই এখন পাবলিক ইভেন্টে যেতে ভয় পান। সিনিয়র অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এখন ক্যামেরার দিকে তাকাতেই ভয় লাগে, কোন্ অ্যাঙ্গেল থেকে শুট করছে কে জানে’।

খ. পেশাগত ক্ষতি : ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বাতিল, সিনেমা থেকে বাদ পড়াÑ‘বিতর্কিত’ তকমা লেগে গেলে প্রযোজকরা ঝুঁকি নিতে চান না।

গ. স্বাধীনতা হরণ : নায়িকারা কী পরবেন, কীভাবে হাঁটবেন, কার সাথে হাসবেনÑসবকিছু ‘ভাইরাল হবে কি না’ এই ভয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এটা পেশার জন্যে অপমানজনক।

ঘ. নতুনদের নিরুৎসাহিত করা : অনেক প্রতিভাবান মেয়ে পরিবার থেকে বাধা পাচ্ছেনÑ‘মিডিয়ায় গেলে তো ভিডিও ভাইরাল করে ছাড়বে’।

৪. কেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এই পথে যাচ্ছেন?

দায় শুধু ক্রিয়েটরদের একা নয়। এটা একটা ইকোসিস্টেমের সমস্যা।

১. অ্যালগরিদমের চাপ : ইউটিউব-ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘ওয়াচটাইম’ আর ‘এনগেজমেন্ট’ চায়। শিক্ষামূলক ২০ মিনিটের সাক্ষাৎকারের চেয়ে ‘নায়িকার পোশাক বিভ্রাট’ ৩০ সেকেন্ডের শর্টসে ১০ গুণ ভিউ আসে। ক্রিয়েটর বাঁচার জন্যে শর্টকাট খোঁজেন।

২. আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা : বেশিরভাগ বিনোদনভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল চালান ২০-২৫ বছর বয়সী তরুণ। তাদের ফিক্সড বেতন নেই। মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করতে হলে ভিউ লাগবে। নীতি বেচে পেট চালানো সহজ।

৩. প্রশিক্ষণের অভাব : ‘সাংবাদিকতা কী, ইথিকস কী, ডিফেমেশন মামলা কী’Ñএসবের কোনো ধারণা না নিয়েই চ্যানেল খুলে বসেছেন অনেকে। তাদের কাছে ‘সবই কন্টেন্ট’।

৪. দর্শকের দায় : তেতো সত্য হলো, আমরা দেখি বলেই ওরা বানায়। ‘নায়িকার ভাইরাল ভিডিও’ লিখে সার্চ না দিলে, শেয়ার না করলে এই বাজার থাকতো না। দিনশেষে ভিউ আমরাই দিচ্ছি।

৫. আইনের দুর্বল প্রয়োগ : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, দণ্ডবিধির ৫০ ধারাÑমানহানির জন্যে আইন আছে। কিন্তু মামলা করা, প্রমাণ করা, বছরের পর বছর কোর্টে ঘোরাÑএই হয়রানির ভয়ে অনেক তারকাই চুপ থাকেন। ক্রিয়েটররা এই সুযোগটাই নেন।

৫. তাহলে সমাধান কোথায়? প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তি দিয়েই :

সমস্যা যেহেতু প্রযুক্তির অপব্যবহারে, সমাধানও প্রযুক্তি ও সচেতনতার সমন্বয়েই আসতে হবে।

ক. প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা :

ইউটিউব-ফেসবুককে ‘ডিফেমেশন’, ‘হ্যারাসমেন্ট’, ‘সেক্সুয়াল অবজেক্টিফিকেশন’ ক্যাটাগরিতে আরও কঠোর এআই মডারেশন আনতে হবে। রিপোর্ট করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিতে হবে। ‘ক্রিয়েটর রিওয়ার্ড’ দেওয়ার আগে বেসিক ইথিকস ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

খ. সম্মিলিত নীতিমালা :

বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বড়ো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে একটি ‘ডিজিটাল বিনোদন সাংবাদিকতা নীতিমালা’ করা দরকার। কী দেখানো যাবে, কী যাবে না, ভুল হলে শাস্তি কীÑতা স্পষ্ট করতে হবে। যারা মানবে তাদের ‘ভেরিফায়েড ইথিক্যাল ক্রিয়েটর’ ব্যাজ দেওয়া যেতে পারে।

গ. আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও ডিজিটাল লিটারেসি :

মানহানির মামলা করার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। পুলিশের সাইবার ইউনিটকে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ পড়াতে হবে কোনটা খবর, কোনটা গুজব, কোনটা ব্যক্তিগত আক্রমণ এটা নতুন প্রজন্মকে শেখানো জরুরি।

ঘ. তারকাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ :

নায়িকারা একা একা প্রতিবাদ করলে ‘অহংকারী’ তকমা জোটে। কিন্তু শিল্পী সমিতি, অভিনয়শিল্পী সংঘ যদি একসাথে কালো তালিকা করে ‘যারা টপ অ্যাঙ্গেল ভিডিও বানায় তাদের ইভেন্টে ঢুকতে দেওয়া হবে না’Ñতাহলে ক্রিয়েটররা সোজা হতে বাধ্য। ভারতে ‘পাপারাজ্জি গাইডলাইন’ আছে, আমাদেরও দরকার।

ঙ. দর্শক হিসেবে আমাদের ভূমিকা :

সবচেয়ে বড়ো পরিবর্তন আনতে পারি আমরা। ‘ভাইরাল ভিডিও’ দেখা বন্ধ করুন, রিপোর্ট করুন, কমেন্টে প্রতিবাদ করুন। ভালো সাক্ষাৎকার, গঠনমূলক রিভিউ, বিহাইন্ড দ্য সিন এসব কন্টেন্টে ভিউ দিন। অ্যালগরিদমকে শেখান যে আমরা ‘গসিপ’ নয়, ‘গল্প’ চাই। মনে রাখবেন, আপনি ক্লিক না করলে ওদের আয় বন্ধ।

চ. বিকল্প আয়ের মডেল :

ক্রিয়েটরদের শুধু অ্যাডসেন্সের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সাবস্ক্রিপশন, মেম্বারশিপ, ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ, ক্রাউড ফান্ডিং এসব মডেলে যেতে হবে। যখন দর্শক সরাসরি পে করবে, তখন ‘যা খুশি দেখিয়ে ভিউ কামাবো’ প্রবণতা কমবে।

প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট বিনোদন

সাংবাদিকতাকে গণমানুষের কাছে নিয়ে গেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। একজন খবর বিক্রেতা থেকে আমরা সবাই এখন খবর তৈরির অংশীদার। এটা ক্ষমতায়ন। কিন্তু ‘ভিউ বাণিজ্য’ সেই ক্ষমতাকে বিষিয়ে তুলছে। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের জন্যে এই ইকোসিস্টেম দিনদিন আরও প্রতিকূল হয়ে উঠছে। ‘টপ অ্যাঙ্গেল’ কোনো ক্যামেরার টেকনিক নয়, এটা একটা মানসিকতা। নারীকে মানুষ নয়, ‘কন্টেন্ট’ হিসেবে দেখার মানসিকতা।

এই অবস্থা চলতে পারে না। কারণ দিনশেষে সাংবাদিকতা মানে শুধু তথ্য দেওয়া নয়, সমাজের দর্পণ হওয়া। সেই দর্পণে যদি শুধু নায়িকার পোশাকের ভাঁজই ধরা পড়ে, তবে আমরা একটা প্রজন্মকে কী শেখাচ্ছি?

সমাধান একদিনে হবে না। কিন্তু শুরুটা করতে হবে আজই। প্ল্যাটফর্ম, ক্রিয়েটর, তারকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সবচেয়ে বেশি দর্শকÑসবার সম্মিলিত চেষ্টায় ‘ভিউ’র নেশা থেকে বেরিয়ে আমরা আবার ‘নিউজ’-এর কাছে ফিরতে পারি। প্রযুক্তি থাকবে, ইন্টারনেট থাকবে, কিন্তু নীতি-নৈতিকতা বিক্রি হবে না এই অঙ্গীকারটাই এখন সময়ের দাবি। নইলে বিনোদন সাংবাদিকতা এগিয়ে গিয়েও আসলে পিছিয়েই থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়