প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৮
মতলবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় হোসেন (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) সকালে মতলব দক্ষিণ পৌরসভার নবকলস এলাকার বাইপাস রোড সংলগ্ন লিটন বকাউলের নির্মাণাধীন নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় হোসেন হাজীগঞ্জ উপজেলার মেনাপুর গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী মনিকে (২২) নিয়ে মতলব পৌরসভার নবকলস গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মাত্র এক মাস আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ভবনটিতে বালু ও নির্মাণসামগ্রী ওঠানোর কাজ করছিলেন হৃদয়। একপর্যায়ে ছাদ থেকে লোহার অ্যাঙ্গেল ওঠাতে গেলে তা ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী সোহেল প্রধান ও বিল্লাল প্রধান অভিযোগ করে বলেন, "বিল্ডিংয়ের একদম পাশেই ৩৩ কেভির মূল বিদ্যুতের লাইন রয়েছে, যেখানে খুঁটি থেকে ১ ফুট দূরত্বও নেই। কোনো প্রকার নিরাপত্তাসামগ্রী ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিল। বিদ্যুতের এই ঝূঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে এর আগে চারজন ঠিকাদার কাজ করতে রাজি হননি। কিন্তু বাড়ির মালিক লিটন জোরপূর্বক তাদের কাজে পাঠান। পৌরসভার প্রকৌশলী কীভাবে এমন ভবনের অনুমোদন দিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
ভবনটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ভবনটি পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে তৈরি হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হতে লোক পাঠানো হয়েছে। সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী ভবনের উভয় পাশে ৩ থেকে ৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখেই নকশা অনুমোদন করা হয়।
নিহতের সহকর্মী জুম্মন বলেন, "আমরা ঠিকাদার সাইফুলের অধীনে এখানে কাজে এসেছিলাম। ঝুঁকি থাকায় আমরা কাজ করতে না চাইলেও ঠিকাদার জোর করে আমাদের পাঠান।"
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার আবেদন করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।








