বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০

সওজের জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ২২ এপ্রিল থেকে

আব্দুল্লাহ আল মামুন
সওজের জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ২২ এপ্রিল থেকে

চাঁদপুর জেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যাপক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার) থেকে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের দু পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে সড়কের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী জানান, সওজের নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত সব ধরনের স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, সরকারি জমি দখল করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না। আমরা ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং ধাপে ধাপে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে হাজীগঞ্জ উপজেলার ধেররা মাছ বাজার এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লা-লালমাই-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর-বেগমগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫১ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের উভয় পাশে অবৈধভাবে বাজার ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ সংকুচিত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাজীগঞ্জ, মো. শাহিনুর রহমান জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী সড়কের সীমারেখা থেকে ১০ মিটার বা ৩৩ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ধেররা বাজার এলাকায় এই আইন লঙ্ঘন করে অনেকেই অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তাই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা থাকবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অবৈধ দখলদারদের মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সওজ সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে শুধু দখলমুক্ত করাই নয়, ভবিষ্যতে যেনো পুনরায় কেউ অবৈধভাবে দখল করতে না পারে সেজন্যে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করেন, মহাসড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনার কারণে যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়িত হলে সড়কের সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল আরও নিরাপদ হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সকলের সহযোগিতা কামনা করে জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি না করে এবং স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়