প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৩
ভিসা জটিলতা নিরসনে আমিরাতের আইন মেনে চলার আহ্বান রাষ্ট্রদূতের
বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইউএই) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের মতবিনিময়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা, নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, কনস্যুলার সেবা এবং প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইউএই)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও যৌক্তিক দাবিগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময়কালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল, নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, দেশে ছুটিতে গিয়ে ফিরে আসার ক্ষেত্রে জটিলতা, কনস্যুলার সেবার বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রবাসীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইউএই)-এর নেতৃবৃন্দ।
ভিসা জটিলতায় আটকে পড়াদের তালিকা আমিরাত কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে দূতাবাস
মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, দেশে ছুটিতে অবস্থানকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া কিংবা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমিরাতে ফিরতে না পারা প্রবাসীদের একটি তালিকা বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সমাধান বা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদ্যমান ভিসাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো বাংলাদেশ দূতাবাস সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করছে। সমস্যাগুলোর সমাধানে দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসে ‘মিনি সাপোর্ট হেল্প সেন্টার’
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি ‘মিনি সাপোর্ট হেল্প সেন্টার’ চালু করা হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।
তিনি বলেন, এই সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে সহজে সহযোগিতা নিতে পারবেন। কনস্যুলার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের হয়রানি ও জটিলতা কমাতে দূতাবাস কাজ করছে।
এ সময় তিনি প্রবাসীদের প্রবাসী কল্যাণ কার্ড (BMET Card) করার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে আরও সহজে সহযোগিতা পাবেন বলে জানান তিনি।
‘আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলতে হবে’
ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি স্বাধীন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ দেশ। এখানে বসবাসরত প্রত্যেক বাংলাদেশির উচিত দেশটির আইন-কানুন ও নিয়মনীতি যথাযথভাবে মেনে চলা। কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বা আইনবিরোধী আচরণ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে দূতাবাস আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে সমস্যা সমাধানে দূতাবাসের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর মোহাম্মদ উল্লাহ খান এবং কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) তৌহিদ ইমাম।
বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইউএই)-এর নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল হক, সহসভাপতি মহিউল করিম আশিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন রনি, সহসাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, দপ্তর সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জাকারিয়া, আইটি সম্পাদক প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহেদ হোসেন।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইউএই)-এর নেতৃবৃন্দ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে দূতাবাসের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








