প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৫
ফের চালু হওয়া পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়ে ৫০ হাজার টাকার ওষুধ দিলো 'ক্লিন চাঁদপুর'

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন রূপে চালু হওয়া চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার ওষুধ প্রদান করেছেন ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ।
|আরো খবর
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়। সদ্য সংস্কার করে চালু হওয়া এই চিকিৎসালয়ে ওষুধের ঘাটতি মেটাতে যুবদল নেতার এমন দ্রুত সাড়া দেয়াকে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঐতিহ্যবাহী ১২০ বছরের চিকিৎসালয়ের পুনর্জন্ম :
চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাণবাজার বাকালী পট্টিতে অবস্থিত এই দাতব্য চিকিৎসালয়টির ইতিহাস প্রায় ১২০ বছরের। দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত এর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে পুরাণবাজার ও আশপাশের অঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান আশ্রয়স্থলটি অচল পড়ে ছিল।
সম্প্রতি চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের আন্তরিক হস্তক্ষেপে এটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ ভবনটির ব্যাপক সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করে চিকিৎসালয়টি আবারও জনগণের সেবায় উন্মুক্ত করে।
সেবার মান বাড়াতে যুবদল নেতার উদ্যোগ
পুনরায় চালু হলেও শুরুতে চিকিৎসালয়টিতে ওষুধের সংকট দেখা দেয়। চিকিৎসাসেবা যেন শুধু পরামর্শেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে কথা চিন্তা করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ। তাঁর দেয়া প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার এ ওষুধের মাধ্যমে এখন থেকে হাসপাতালে আসা দু:স্থ রোগীরা সরাসরি বিনামূল্যে ওষুধ পাবেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর মাধ্যমে শহর পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং করোনাকালসহ বিভিন্ন সময়ে মানবিক সাহায্য প্রদান করে ইতোমধ্যে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন অ্যাড. আকাশ। তাঁর এই নতুন উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশায় পুরাণবাজারবাসী
এ দাতব্য চিকিৎসালয় চালু হওয়া এবং তাতে ওষুধ সরবরাহের খবরকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে নিচ্ছেন পুরানবাজারের সাধারণ মানুষ। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই উদ্যোগ যেন সাময়িক না হয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই চিকিৎসালয়ে প্রতিদিন অন্তত একজন নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সার্বক্ষণিক জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরাণবাজারের শতবর্ষী এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের নতুন করে যাত্রা শুরু করা কেবল একটি ভবনের সংস্কার নয়; এটি দু:স্থ ও অসচ্ছল মানুষের বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।








