বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মসজিদ কমিটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ

বৃক্ষরোপণের হিড়িক

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
বৃক্ষরোপণের হিড়িক

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা, মসজিদে জুমার আলোচনায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা, র‌্যালি ও প্রচারাভিযানেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

সামাজিক সংগঠন ‘চাঁদমুখ’-এর জেলা সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাকির জানান, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না; এটি পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটিক্ষয় রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা শাখার সভাপতি মাও. মো. সাইফুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান গাজী জানান, আমরা সাংবাদিকরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। সবুজায়নের লক্ষ্যে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সবারই পালন করা উচিত। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার আহ্বান জানাই আমাদের এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসাদী বায়তুল আকসা জামে মসজিদ কমিটি, মসজিদভিত্তিক শিশু সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মনিটরিং কমিটি ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইউনুস তালুকদার, সেক্রেটারি মো. কালু মোল্লা এবং মুসল্লিদের মধ্যে মো. মহিউদ্দিন খান, মো. দুলাল খান, মো. আনোয়ার শেখ প্রমুখ।

মউশিক শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম এস এম আব্দুল খালেক চাঁদপুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে এলে দেশ আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

চাঁদপুর ইকরা মডেল একাডেমির পরিচালক লায়ন গোলাম হোসেন টিটু জানান, ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি হলো দেশব্যাপী সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রতিবছর ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সরকারি এ উদ্যোগকে সফল করতে আমরা নিজ উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ করেছি।

সামাজিক সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন খান আকাশ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তিনি সবাইকে একটি গাছ রোপণের পাশাপাশি তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ বছর পাঁচ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কাজ দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবারই দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজ উদ্যোগে কাজ করছেন, তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটিক্ষয় রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে সকল সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে নয়, বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রত্যেকে যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেন, তাহলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের দেশ আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হলো দেশব্যাপী সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। এ লক্ষ্যে সরকার পাঁচ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি এ উদ্যোগকে সফল করতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়