শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫

আবু ইউসুফ রুপনের উদ্যোগ

নতুন সাজে ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠাগার, দৃষ্টি কেড়েছে শিক্ষার্থীদের

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল
নতুন সাজে ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠাগার, দৃষ্টি কেড়েছে শিক্ষার্থীদের

শাহরাস্তি উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে। বর্তমানে ১ হাজার ৪১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। উপজেলা সদর থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত হলেও পাঠদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়টি। মনোরম পরিবেশে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১২৭ বছরে পা রেখেছে। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবু ইউসুফ রুপন।

সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তিনি। ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজ হাতে ঢেলে সাজানোর কাজে নেমে পড়েছেন। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি আধুনিক মানের পাঠাগার তৈরি করে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন। একসাথে ২৫ জন শিক্ষার্থী বসে পাঠাগারে তাদের পছন্দের বই পড়ে সময় কাটাতে পারবে। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গড়ে তোলা হয়েছে এই পাঠাগার। প্রায় দেড় হাজার বই রয়েছে এখানে। সংগ্রহে রয়েছে আরও আড়াই হাজার বই, সব মিলিয়ে ৪ হাজার বই শোভা পাবে আধুনিক মানের এই পাঠাগারে। বর্তমানে বিভিন্ন কালজয়ী লেখকের বই দিয়ে সাজানো হয়েছে এটি। এতে শোভা পাচ্ছে সুকুমার সেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, জাহানারা ইমাম, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাহফুজা খানম, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার ও মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল রহীমের বইয়ের সংগ্রহ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু ইউসুফ রুপনের নিজ উদ্যোগে পাঠাগারটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। উক্ত পাঠাগারের সম্পূর্ণ অর্থ সভাপতি মহোদয় নিজেই দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজ উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করে আসছেন। আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আধুনিক মানের এই পাঠাগার। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ফিতা কেটে পাঠাগারের উদ্বোধন করবেন। পাঠাগার উদ্বোধন ও এমপি মহোদয়ের আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আবু ইউসুফ রুপন জানান, "ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আমি বড় হয়েছি। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, এবার দেওয়ার পালা। আমি চেষ্টা করবো সকলের সমর্থন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে।"

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়