শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৫

ইংরেজিতে আটকে যাওয়া জিহ্বা: শিক্ষার্থীদের জড়তা ও উত্তরণের পথ

ফাতেমাতুজ জান্নাত প্রিয়া

আমরা শিক্ষাজীবনে ইংরেজি পড়ি, ব্যাকরণের (গ্রামার) শত নিয়ম মুখস্থ করি, কিন্তু একজন বিদেশির সামনে পড়লেই গলা শুকিয়ে যায়। “গু হধসব রং...” এর পর আর কথা বের হয় না (ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। এই চিত্রটা শুধু গ্রামের স্কুলে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকধারীদের (গ্র্যাজুয়েট) মধ্যেও দেখা যায়।

প্রশ্ন হলো, আমরা ইংরেজি পারি না, নাকি বলতে পারি না? দুটোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে।

তাহলে কেন এই জড়তা, সে বিষয়ে আজ জেনে নেওয়া যাক:

ভুল পদ্ধতিতে শেখা: একটি ভাষা শিখতে হলে প্রথমে আমাদেরকে সেই ভাষার নিয়ম শেখানো হয়। ওসব নিয়মগুলো প্রয়োগ করা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানান ক্ষেত্রে ভাষাটিকে ব্যবহার করার প্রবণতা খুব কমই দেখা যায়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইংরেজি শেখায় পরীক্ষায় পাস করার জন্য, কথা বলার জন্য নয়। ক্লাসে কাল (ঞবহংব), বাচ্য (ঠড়রপব), উক্তি (ঘধৎৎধঃরড়হ), ক্রিয়া পদের সঠিক ব্যবহার (জরমযঃ ভড়ৎস ড়ভ াবৎনং) ইত্যাদি শেখানো হয়, কিন্তু বলার অনুশীলনের (ঝঢ়বধশরহম ঢ়ৎধপঃরপব) জন্য ৫ মিনিটও বরাদ্দ থাকে না। ফলে আমরা ইংরেজি সম্পর্কে জানি, কিন্তু ইংরেজি বলতে জানি না। ব্যাকরণের এত এত নিয়ম শেখানো হয় যে খোদ ইংরেজরাও বোধ হয় এত নিয়মের ধার ধারে না।

ভুল করার ভয়: শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো “লোকে কী বলবে”। ব্যাকরণে ভুল হলে বন্ধুরা হাসবে, উচ্চারণ খারাপ হলে শিক্ষক প্রকাশ্যে বকা দেবেনÑএমন নানা সংকোচ ও ভয় থেকেই আমরা চুপ থাকি। অথচ পৃথিবীর কোনো শিশুই ব্যাকরণ শিখে কথা বলা শুরু করে না।

আমরা নিজেদের মাতৃভাষার দিকে নজর দিলে দেখতে পাই, প্রথমে মা, বাবা-সহ নিকটজনদের মুখ থেকে শুনে শুনে মাতৃভাষা রপ্ত করেছি। তখন কি আগে আমাদের ভাষার নিয়মকানুন শেখানো হয়েছিল? একদমই না। আমরা যে ভাষা বেশিরভাগ সময় শুনব, চর্চা করব, তাতে খুব সহজেই অভ্যস্ত হতে পারব।

বাংলায় চিন্তা করে ইংরেজিতে অনুবাদ: আমরা মনে মনে প্রথমে বাংলায় বাক্য সাজাই, তারপর সেটাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে যাই।

এই অনুবাদ প্রক্রিয়ায় ৮০% সময় ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। ফলে কথা আটকে যায়। এ ব্যাপারটা আমাদের বাচনিক ইংরেজিতে (ঝঢ়ড়শবহ ঊহমষরংয) ভালো করার ক্ষেত্রে বিশাল বড় বাধা হয়ে দঁাড়িয়েছে।

শোনার অভাব: একটি শিশু কথা বলার আগে অন্তত দুই বছর শুধু শোনে। তারপর আধো আধো উচ্চারণে বলার চেষ্টা করে। আমরা ইংরেজি শুনি কতটুকু? ক্লাসের বাইরে ইংরেজি শোনার কোনো পরিবেশই আমাদের নেই। অথচ, আমরা যা শুনি তার অনেকটুকু অংশই আমাদের মস্তিষ্ক ধারণ করে ফেলে খুব সহজেই। যেমন: জনপ্রিয় কোনো গান বা ছড়া বারবার শুনলে আমাদের খুব সহজেই মুখস্থ হয়ে যায়। মুখে কথা বলার দক্ষতার জন্য শোনার কোনো বিকল্প নেই।

উত্তরণের ৫টি বাস্তব সমাধান: জড়তা কাটানোর জন্য বিদেশে যাওয়া বা দামি কোর্স করা জরুরি নয়। দরকার পদ্ধতি বদলানো।

১. স্বাবলীলতা আগে, নির্ভুলতা পরে (ঋষঁবহপু ঋরৎংঃ, অপপঁৎধপু খধঃবৎ): প্রথম ৩ মাস ব্যাকরণের চিন্তা বাদ দিন। ভুল হোক, তবুও বলুন। লক্ষ্য থাকবে: থামা যাবে না। একটি ভুল বাক্য একটি নীরবতার চেয়ে হাজার গুণ ভালো। নির্ভুলতা পরে আপনা-আপনিই আসবে।

২. অনুসরণের কৌশল (ঝযধফড়রিহম ঞবপযহরয়ঁব): প্রতিদিন ১৫ মিনিট একটি ইংরেজি ভিডিও (যেমন: বিবিসি লার্নিং ইংলিশ, টেড টক) চালিয়ে বক্তার সাথে সাথে একই সুরে, একই গতিতে বলার চেষ্টা করুন। এতে উচ্চারণ, গতি ও আত্মবিশ্বাসÑতিনটাই বাড়বে।

বর্তমান যুগে ইংরেজিতে কথা বলায় ভালো করার জন্য ইউটিউবের ব্যবহার হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ধারাবাহিক আলোচনা (পডকাস্ট), গল্প বলা (স্টোরি টেলিং), সহজ ইংরেজিতে সংবাদ শোনা যেতে পারে। এছাড়াও অনুবাদিত উপশিরোনাম (সাবটাইটেল)সহ সহজ ইংরেজিতে কার্টুন সিরিজ দেখা যেতে পারে।

৩. ছোট ছোট পরিবেশ তৈরি করুন: বড় লক্ষ্য নয়, দিনে ১০ মিনিটের “বাংলা বর্জিত অঞ্চল (ঘড় ইধহমষধ তড়হব)” বানান বন্ধুদের সাথে। আয়নার সামনে দঁাড়িয়ে ২ মিনিট নিজের দিন সম্পর্কে বলুন। ফোনের ভাষা ইংরেজি করে দিন। ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। ছোট ছোট কাজগুলোর ব্যাপারে ইংরেজিতে বাক্য তৈরির অভ্যাস করা যেতে পারে।

৪. প্রশ্ন দিয়ে কথা শুরু করুন: ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রশ্ন করা। নিজে আটকে গেলে উল্টো প্রশ্ন করুনÑ”ডযধঃ ফড় ুড়ঁ ঃযরহশ ধনড়ঁঃ রঃ?” এতে চাপ আপনার ওপর থেকে সরে যাবে। আর, নিজেকে নিয়ে ভুলেও হীনমন্যতায় ভোগা যাবে না। নিজেকে দ্বিতীয়বার ভালো করার সুযোগ দেওয়ার মনমানসিকতা থাকলে নিজের প্রতি ভালোবাসাও বৃদ্ধি পাবে, যা একজীবনে খুবই জরুরি।

৫. প্রযুক্তির ব্যবহার: এখন আর সঙ্গী (পার্টনার) খুঁজতে হয় না। চ্যাটজিপিটি (ঈযধঃএচঞ), এলসা স্পিক (ঊখঝঅ ঝঢ়বধশ), ডুওলিঙ্গো (উঁড়ষরহমড়)-র মতো অ্যাপে আপনি দিনরাত অনুশীলন করতে পারেন, কেউ আপনাকে বিচার করবে না। আপনার সত্যিকারের ইচ্ছাশক্তিই এখানে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম (ওঞ ঃড়ড়ষং), স্পোকেন শিখতে সহায়ক অ্যাপের ব্যবহার, উপশিরোনামসহ (সাবটাইটেল) সহজ ইংরেজিতে কার্টুন দেখতে উৎসাহিত করা উচিত। এতে শব্দ ও বাক্যের বানানগুলোও আয়ত্তে চলে আসবে। প্রযুক্তির শত খারাপ দিকের বিপরীতে এটা হোক ভালোর পক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ।

শেষ কথা: ইংরেজি কোনো জ্ঞানের বিষয় নয়, এটি একটি অভ্যাস। সঁাতার বই পড়ে শেখা যায় না, পানিতে নামতে হয়। একইভাবে ইংরেজি বলতে হলে বলতে শুরু করতে হবে। আর স্পোকেন ইংরেজি শেখার যাত্রায় কখনোই নিন্দুকের কথায় থেমে যাওয়া যাবে না। আপনি থেমে গেলেন মানেই হেরে গেলেন। হারবেন না জিতবেন, আয়নায় দঁাড়িয়ে নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন।

মনে রাখবেন, পৃথিবীর কেউই আপনার ব্যাকরণ মনে রাখবে না, মনে রাখবে আপনি তার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছেন কি না। তাই আজ থেকেই ভাঙা ভাঙা হলেও বলা শুরু করুন। জড়তা একদিনে কাটবে না, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে কাটবেই। অবশ্যই শুরুটা আগামীকাল থেকে নয়, বরং আজ থেকেই হোক, এখন থেকেই হোক আপনার ইংরেজি চর্চার শুরু।

ছবি-০১

সবাই বলে

সুশীল কুমার দেবনাথ

বাবা আমায় এনে দিলো

হাতের সুন্দর একটি ঘড়ি,

আমি যেন সবসময় ভালোভাবে

লেখাপড়া মনোযোগ দিয়ে করি।

বললো বাবা এবার তোকে

করতে হবে পাস,

তাই আমি মন দিয়ে

পড়ছি এগারো মাস।

মাসের শেষে পরীক্ষাতে

পাস করেছি আমি,

সবাই বলে এই ছেলেটি

হবে নামীদামী

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়