সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫০

ফরিদগঞ্জে পঙ্গুত্বকে জয় করা ফরিদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ভাঙল চোরের দল

প্রবীর চক্রবর্তী।।
ফরিদগঞ্জে পঙ্গুত্বকে জয় করা ফরিদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ভাঙল চোরের দল

প্রতিবন্ধিতার বাধা ডিঙিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন দেখেছিলেন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রতিবন্ধী যুবক মো. ফরিদ হোসেন। ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে বাঁচবেন—এই ছিল তার অঙ্গীকার। তীব্র কর্মস্পৃহা আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় তিনি সেই পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয়বারের মতো তার দোকানে হানা দিয়েছে চোরের দল। লুটে নিয়েছে নগদ টাকাসহ মূল্যবান সব মালামাল। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব ফরিদের এখন করুণ আকুতি, "আমার আর ভিক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ রইল না।"

সরজমিনে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ালী হাজী বাড়ির সোলায়মান হাজীর ছেলে মো. ফরিদ হোসেন প্রায় ১০ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। তার কোমর থেকে নিচের অংশ পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়। তবে পঙ্গুত্ব তাকে দমাতে পারেনি, বেছে নেননি সহজ কোনো পথও। ঢাকার পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে কম্পিউটার ও মোবাইল মেরামতের প্রশিক্ষণ নেন ফরিদ। এরপর নিজ এলাকার পূর্ব বড়ালী শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে চালু করেন ‘ফরিদ কম্পিউটার স্টোর অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ’। হুইল চেয়ারে বসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয়দের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি।

প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন ফরিদ। কিন্তু সেই রাতটিই তার জন্য কাল হয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে চোরের দল দোকানের ভেতরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর ফরিদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তার চোখে-মুখে শুধু চরম হতাশার ছাপ দেখা যায়। বাকরুদ্ধ ফরিদ ফ্যালফ্যাল করে উপস্থিত লোকজনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা চুরির সঠিক তদন্ত করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।

ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ফরিদ বলেন, "আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। কষ্ট করে উপার্জন করে বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলাম। এর আগেও দুবার আমার দোকানে চুরি হয়েছিল। ধার-দেনা করে আবারও ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলাম। কিন্তু এবার সব হারিয়ে আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম। বৃদ্ধ মা-বাবার অন্ন জোগাব কীভাবে, বুঝতে পারছি না। ভিক্ষাবৃত্তিকে আমি ঘৃণা করলেও এখন আর কোনো উপায় দেখছি না।" তিনি জানান, আগের দুবার চুরির ঘটনায় তার দোকান থেকে নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল খোয়া গিয়েছিল।

বারবার চুরির শিকার হওয়া সত্ত্বেও আইনি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন ফরিদ। তিনি জানান, প্রথম দুবার চুরির পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ এসে তদন্ত করে যায়, কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে এবার আর তিনি পুলিশকে কিছু জানাননি।

তবে এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়