প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ২০:০৩
আগে করেছেন সক্রিয় রাজনীতি
মাদ্রাসা সুপার ও পোস্টমাস্টার পদে দ্বৈত চাকরির অভিযোগ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্যের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে করেছেন নানা অপকর্ম এমন অভিযোগ এলাকার মানুষের মুখে মুখে। ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষা চলাকালে প্রশাসনের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটক হয়ে জেল খেটেছেন। সে ঘটনায় তিনি মাদ্রাসা সুপার থেকে সাময়িক বরখাস্তও হন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদশে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার হয় এবং তিনি ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে সেখানে কর্মরত রয়েছেন।এমপিও নীতিমালা অনুসারে নিয়মিত বেতনও পাচ্ছেন। সর্বশেষ তার আরেক অপকর্ম ফাঁস হলো। সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে তার বিরুদ্ধে এক সঙ্গে দুটি সরকারি সুবিধাভোগী পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে।
|আরো খবর
আলোচিত এই ব্যক্তি হচ্ছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার (বতর্মানে
মামলাজনিত কারণে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত) মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাছপুর সাব পোস্ট অফিসে অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবেও কর্মরত থেকে দু প্রতিষ্ঠান থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। মাওলানা ইকরাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।
সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এভাবে দ্বৈত চাকরি করে আসছেন। যা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর পরিপন্থী। এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১ ধারার ১০ উপধারায় অনুযায়ী ‘কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার এমপিও সুবিধা বাতিল করা হবে'।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ গণমাধ্যমকর্মীকে জানান, কয়েক মাস আগে তিনি পোস্টমাস্টারের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে গত জুন মাসের বেতন গ্রহণের তথ্য দেখানো হলে তিনি বলেন, কাজ করেছি, তাই বেতন নিয়েছি। পরে আবার তিনি দাবি করেন, সেই বেতনের অর্থ তিনি ফেরত দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান জানান, মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ মাদ্রাসা সুপার পদে চাকুরি করার তথ্য গোপন করে পূর্ব এখলাছপুর সাব পোস্ট অফিসে ইডিএ পদে চাকুরি করেছেন। জুন মাসের বেতনও তিনি গ্রহণ করেছেন। পরে বিষয়টি জেনে আমি তা ফেরত নিয়েছি। তিনি আমার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। শুনেছি জেলা পরিদর্শকের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে জেলা পোস্ট পরিদর্শক মৌখিকভাবে তার বেতন আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেয়া হলেও আইবাস (রইঅঝ++) ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার হিসেবে আইবাসে বেতন নেয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন।
চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতনের রোল যাবে না।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একসঙ্গে দুটি পদে চাকুরি করতে পারেন না। মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্বীকার করে পোস্টমাস্টার পদ থেকে গত ৩০ এপ্রিল দেয়া একটি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও এতে কোনো রিসিভিং বা পদত্যাগ গ্রহণের কোনো স্বাক্ষর নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।








