সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯

একটি কালভার্ট বদলে দেবে মতলবের ৮ গ্রামের মানুষের জীবন

রেদওয়ান আহমেদ জাকির
একটি কালভার্ট বদলে দেবে মতলবের ৮ গ্রামের মানুষের জীবন
ক্যাপশনঃ মতলব পৌরসভার উদ্দমদী গ্রামে রাস্তার ওপর নির্মিত কালভার্ট।

৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কালভার্ট : বদলে যাবে আট গ্রামের মানুষের জীবন

মতলব পৌরসভার উদ্দমদী এলাকার একটি কালভার্ট আটটি গ্রামের মানুষের জীবন বদলে দেবে। বছরের পর বছর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ছিলো তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি বা পানির স্রোত বাড়লেই সেই সাঁকো হয়ে উঠতো আতঙ্কের প্রতীক। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হতো। দীর্ঘদিনের সেই অপেক্ষার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টটির কাজ শেষ পর্যায়ে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই দূর হবে না, বদলে যাবে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, এতোদিন খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেতো। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে ভোগান্তিতে পড়তো, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হিমশিম খেতে হতো, জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দিতো চরম সংকট। অনেক সময় বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় সময় ও অর্থ—দুয়েরই অপচয় হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান সাগর বলেন, কালভার্ট না থাকায় এই এলাকার আটটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে তারা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

অবশেষে উদ্যোগ নেয়ায় এখন দৃশ্যমান হয়েছে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন। নির্মাণকাজ শেষের দিকে পৌঁছানোয় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, কালভার্টটি চালু হলে আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও আর আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মো. জহিরুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বর্ষার মাঝেও কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হবে। কালভার্টটি আরও টেকসই করার লক্ষ্যে নির্ধারিত ড্রইংয়ের বাইরেও অতিরিক্ত ভিমের কাজ করা হচ্ছে।

মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, কালভার্ট নির্মাণকাজ শেষের পথে। এখন রেলিং ও রঙের কিছু কাজ বাকি আছে। খুব শিগগিরই পুরো কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মানের সাথে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না।

মতলব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, এই কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। কাজটি মানসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ত্রুটি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে কালভার্টটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করা হবে। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এই একটি অবকাঠামোই উদ্দমদী এলাকার আটটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন গতি এনে দেবে এবং উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়