বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪

‘ক্রীড়াকণ্ঠে’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ

শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করতে হলে বিকেলটা প্রাইভেটমুক্ত করতে হবে

---মো. মোশারেফ হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করতে হলে বিকেলটা প্রাইভেটমুক্ত করতে হবে

চাঁদপুর জেলার অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। বিশেষ করে ফুটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও অ্যাথলেটিক্সে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিশাল খেলার মাঠ, ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি জেলার ক্রীড়াঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মোশারেফ হোসেন। তিনি জেলা সুজনের সভাপতি, ক্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর-এর সাবেক সভাপতি। ক্রীড়াক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, মাঠমুখী শিক্ষা, নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা, মোবাইল আসক্তি, অতিরিক্ত প্রাইভেটনির্ভরতা, ক্রীড়া অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ক্রীড়াকণ্ঠের জন্যে তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সেটি চাঁদপুর জেলার হাতেগোণা কয়েকটি ক্রীড়াচর্চাবান্ধব প্রতিষ্ঠানের একটি—বিষয়টি কি আপনি স্বীকার করবেন? এ ক্ষেত্রে আপনার অনুভূতি কী?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমি নিজেকে বা আমার প্রতিষ্ঠানকে অন্যদের তুলনায় সেরা বলতে চাই না। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের চেয়েও ভালোভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রীড়াচর্চা করছে। তবে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা আমরা সবসময় করে থাকি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের অতীত সাফল্য সম্পর্কে কিছু বলুন।

মো. মোশারেফ হোসেন : বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্রীড়াক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে ফুটবলের ক্ষেত্রে বাবুরহাটের মাঠ ও এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম চাঁদপুরজুড়ে সর্বজনবিদিত। পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সেও আমাদের অনেক শিক্ষার্থী জেলা পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে। ফলে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি ঐতিহাসিক অবস্থান রয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের অতীত নাকি বর্তমান—কোন্ সময়টি বেশি সমৃদ্ধ বলে মনে করেন?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমি মনে করি, অতীত ও বর্তমান—দুই সময়েই বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্রীড়া ঐতিহ্য সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, পাশাপাশি প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। এই বাস্তবতায় বাবুরহাট তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবসময় সচেষ্ট। এক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাদের বিশাল খেলার মাঠটি শিক্ষার্থীরা কি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমরা মাঠটিকে যথাসম্ভব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাঠের খেলাধুলার চেয়ে মোবাইল ফোনের খেলায় বেশি আসক্ত। তাই তাদের কীভাবে মাঠমুখী করা যায়, সে চেষ্টা আমরা করছি। সামাজিক কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে ছেলেরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে গেলেও মেয়েদের সেভাবে সামনে আনা সম্ভব হয়নি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাদের কি ফুটবল, ভলিবল ও হ্যান্ডবলের আলাদা দল রয়েছে? ফুটবলে নিশ্চয়ই বেশি জোর দেওয়া হয়। আন্তঃশ্রেণি ফুটবল টুর্নামেন্ট কি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়? ফুটবলে আপনাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো কী কী?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমাদের ফুটবল, ভলিবল ও হ্যান্ডবলের আলাদা আলাদা দল রয়েছে। শুধু ফুটবল নয়, হ্যান্ডবল ও ভলিবলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের ফুটবল দল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে মেয়েদের ফুটবল ও হ্যান্ডবলে আমরা চাঁদপুরের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানের ক্রিকেট দলের বর্তমান অবস্থা কেমন? শিক্ষার্থীদের ঝোঁক ক্রিকেটে নাকি ফুটবলে বেশি?

মো. মোশারেফ হোসেন : ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের ব্যয় তুলনামূলক কম। এ কারণে আমরা ফুটবলকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তবে শিক্ষার্থীদের ক্রিকেটের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানের মেয়ে শিক্ষার্থীদের কোন্ খেলায় বেশি আগ্রহ বা কৃতিত্ব রয়েছে? মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কি আলাদা ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমাদের ছেলে ও মেয়েরা ক্রীড়াক্ষেত্রে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের ফুটবল দল কয়েকবার জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমাদের হ্যান্ডবল দলও দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।

আমাদের আলাদা নারী ক্রীড়া প্রশিক্ষক নেই। তবে কয়েকজন শিক্ষক ক্রীড়াক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্যোগী। তাঁদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় নারী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছে। একজন দক্ষ নারী প্রশিক্ষক পাওয়া গেলে মেয়েদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব হতো।

সরকারিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে সাধারণত একজন ক্রীড়া শিক্ষক থাকেন। যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠান সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাই একজন নারী ক্রীড়া শিক্ষক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকার চাইলে যেসব প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেখানে অতিরিক্ত নারী ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানের স্কুল ও কলেজ শাখায় কি পৃথক ক্রীড়া শিক্ষক আছেন?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমাদের প্রতিষ্ঠানে একজন ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন, যিনি স্কুল ও কলেজ—দুই শাখার দায়িত্বই পালন করছেন। যেহেতু কলেজ শাখাটি পৃথক ক্যাম্পাসে এবং বিশাল মাঠের পাশে অবস্থিত, তাই সেখানে একজন দক্ষ ও পৃথক ক্রীড়া শিক্ষক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ক্রীড়াকণ্ঠ : প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপে আপনার প্রতিষ্ঠানের ক’টি দল অংশ নেবে? প্রস্তুতি কেমন?

মো. মোশারেফ হোসেন : প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপে আমাদের মোট চারটি দল অংশগ্রহণ করবে। আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে, তাহলে আমরা জেলা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ক্রীড়াচর্চা নিয়ে আপনি কতোটা সন্তুষ্ট?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমি সবসময় বলে থাকি, আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন অতিরিক্ত প্রাইভেটনির্ভর হয়ে পড়েছে। এই প্রাইভেটনির্ভরতা ক্রীড়াক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা মাঠের খেলাধুলার চেয়ে মোবাইলের খেলায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

শিক্ষার্থীদের যত বেশি মাঠমুখী করা যাবে, তারা তত বেশি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং দক্ষ হয়ে উঠবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ইনডোর গেমসের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম আছে কি?

মো. মোশারেফ হোসেন : না, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ইনডোর গেমসের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। দাবা ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম পর্যাপ্ত নেই। তবে শীত মৌসুমে আমরা ব্যাডমিন্টন খেলাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : অভিভাবকরা প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ায় সন্তানদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কম দেখান—আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমার পর্যবেক্ষণ হলো, যারা ভালো খেলছে তারা অনেক সময় ভালো পড়ছে না, আবার যারা ভালো পড়ছে তারা ভালো খেলছে না। আমাদের উচিত দুটোকে সমানতালে এগিয়ে নেওয়া। একজন শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবেও সক্ষম হতে হবে। আর এর জন্য ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের আসক্তিই কি প্রধান বাধা?

মো. মোশারেফ হোসেন : মোবাইল ফোনের আসক্তি অবশ্যই একটি বড় বাধা। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রাইভেটনির্ভরতাও বড় সমস্যা। যে সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঠে থাকার কথা, সে সময় তারা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে ছুটছে।

আমি মনে করি, এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে বিকেলে যখন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার সময়, তখন কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রাইভেট পড়ার কারণে মাঠ থেকে দূরে না থাকে—এ বিষয়ে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাদের প্রতিষ্ঠানে একটি পুকুর রয়েছে। সেখানে কি শিক্ষার্থীরা সাঁতার অনুশীলনের সুযোগ পায়?

মো. মোশারেফ হোসেন : শিক্ষার্থীদের সাঁতারের প্রতি আগ্রহ আছে। কিন্তু আমাদের আগ্রহ ও সক্ষমতা কিছুটা সীমিত। কারণ কোনো শিক্ষার্থী সাঁতার কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে এর দায়দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমাকে বহন করতে হবে। যেহেতু আমাদের কোনো প্রশিক্ষিত সাঁতার প্রশিক্ষক নেই, তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাঁতারকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে পারি না। তবে আমরা চেষ্টা করি বছরে অন্তত একবার শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে। এজন্য আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ভবিষ্যতে স্কুল ও কলেজ আলাদা সত্তায় রূপ নিলে বিশাল খেলার মাঠটির ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার কীভাবে হওয়া উচিত?

মো. মোশারেফ হোসেন : স্কুল ও কলেজ আলাদা সত্তায় রূপ নিলে মাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও ইতিবাচক মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ মাঠ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে এক পক্ষ খেলবে, অন্য পক্ষ হয়তো খেলতে পারবে না। একই সময়ে শ্রেণি কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই মাঠটি ব্যবহার করতে হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ব্যাপক ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব?

মো. মোশারেফ হোসেন : মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক দৃঢ় অঙ্গীকার। আমি শত চেষ্টা করলেও যদি মাদকের অবাধ প্রবাহ ও সহজলভ্যতা থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি মাদক থেকে দূরে রাখা কঠিন হবে।

তবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের অনেকটাই মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একজন শিক্ষার্থী মাঠে থাকবে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে—তাহলে তার বিপথে যাওয়ার সুযোগ অনেক কমে যাবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোনো বিশেষ স্বপ্ন রয়েছে?

মো. মোশারেফ হোসেন : অবশ্যই স্বপ্ন রয়েছে। বাবুরহাট মাঠ এবং এর পাশে আমাদের কিছু জমি রয়েছে, যেগুলো আমি ইতোমধ্যে ক্রীড়ার উপযোগী করার চেষ্টা করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল সেখানে একটি হ্যান্ডবল মাঠ ও একটি বাস্কেটবল মাঠ তৈরি করা। তবে আমার দায়িত্ব পালনের সময়কাল আর খুব বেশি দীর্ঘ নয়। হয়তো আমার পক্ষে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে না। তবে আমার পরে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাঁর ইচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে অবশ্যই এই কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ক্রীড়াকণ্ঠ : কর্মজীবন শেষে বিদায়বেলায় যদি আপনাকে প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের ‘সেরা ক্রীড়াবান্ধব অধ্যক্ষ’ বলা হয়, কেমন লাগবে?

মো. মোশারেফ হোসেন : না, আমি নিজেকে সেরা ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠানপ্রধান দাবি করি না। আমি শুধু চেষ্টা করেছি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে। কতোটুকু পেরেছি জানি না। তবে আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নত করতে সরকারি বা স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছ থেকে কোনো বিশেষ বাজেট বা সহযোগিতা পাচ্ছেন?

মো. মোশারেফ হোসেন : প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বা স্থানীয় কোনো সংস্থা থেকে বিশেষ ধরনের সহযোগিতা আমি পাইনি। তবে স্থানীয় মানুষের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা পেয়েছি। তারা সবসময় চেয়েছেন বাবুরহাট স্কুল ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাক।

ক্রীড়াকণ্ঠ : অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হলো। এর বাইরে খেলাধুলা বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চান?

মো. মোশারেফ হোসেন : আমি আগেই বলেছি, আমার সাধ্যের সবটুকু এই প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কতোটুকু পেরেছি, তা মূল্যায়ন করবেন অন্যরা। তবে এটুকু দৃঢ়ভাবে বলতে পারি—দায়িত্ব পালনে আমি কখনো কুণ্ঠাবোধ করিনি।

সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যেন সামনে এগিয়ে যায়, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি। আমি প্রত্যাশা করি, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়