মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২

খেলাধুলায় ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা, অথচ মতলব পৌরসভার বাজেটে বরাদ্দ কম

রেদওয়ান আহমেদ জাকির
খেলাধুলায় ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা, অথচ মতলব পৌরসভার বাজেটে বরাদ্দ কম

মতলব পৌরসভায় তরুণ, ছাত্রসমাজ ও শিক্ষার্থীরা যখন মাদকের নীল ছোবল এবং মুঠোফোনের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে বাঁচতে খেলার মাঠে ভিড় করছে, ঠিক তখনই পৌরসভার নতুন বাজেটে ক্রীড়া খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে খুবই কম। অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তরুণদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম ‘খেলাধুলা’ খাতে রাখা হয়েছে নামমাত্র বরাদ্দ। সরেজমিনে মতলব পৌরসভার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিকেল হলেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যাট-বল কিংবা ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছে। ডিজিটাল আসক্তি ও বিপথগামিতা থেকে দূরে থাকতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ছোট-বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় ও প্রশাসনভিত্তিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় আয়োজিত বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে বিপথগামী শিক্ষার্থীরা মাঠের দিকে ঝুঁকছে।

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও তরুণদের এভাবে মাঠমুখী হওয়াটা অত্যন্ত ইতিবাচক। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখান থেকেই আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব। মতলব পৌরসভার এবারের ৬৪ কোটি ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার বিশাল বাজেটে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতের জন্যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে একেবারেই সামান্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “আমরা মাঠ সংস্কারের কথা বললেও কোনো অনুদান পাই না। অথচ বাজেট হয় কোটি কোটি টাকার। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাঠের উন্নয়ন ও খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহ সবচেয়ে জরুরি ছিল।”

স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করেন, শুধু রাস্তাঘাট পাকা করলেই একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ে ওঠে না; তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করা বাধ্যতামূলক। তারা আগামী সংশোধিত বাজেটে খেলাধুলা ও যুব উন্নয়ন খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার জন্যে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

মতলব পৌরসভার প্রশাসক কে. এম. ইশমাম বলেন, পৌরসভার বাজেটে বরাদ্দ কম থাকলেও শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করতে প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রীড়ার জন্যে বিশেষ বরাদ্দও রয়েছে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদকের নীল ছোবল এবং মুঠোফোনের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে বাঁচাতে খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়