মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৯

চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ১২ বছর ধরে নেই জেলা ফুটবল লীগের আয়োজন : নীরব গ্যালারি

একসময় গ্যালারি থাকতো দর্শকে ভরা, ছিলো মাইকিং ও টিকিটের উৎসব

নিয়মিত লীগ না হওয়ায় সংকটে স্থানীয় ফুটবল

কবির হোসেন মিজি
একসময় গ্যালারি থাকতো দর্শকে ভরা, ছিলো মাইকিং ও টিকিটের উৎসব

একসময় চাঁদপুরের ফুটবল মানেই ছিলো উৎসব। জেলা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গ্যালারিতে দর্শকের ঢল নামতো। মাঠে দু দলের লড়াই, গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, শহরজুড়ে মাইকিং আর খেলা ঘিরে নানা আয়োজন মিলিয়ে তৈরি হতো অন্যরকম আনন্দের পরিবেশ। কখনো কখনো দর্শকদের জন্যে টিকিটও বিক্রি করতে হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে অনেকটাই হারিয়ে গেছে সেই চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জেলা ফুটবল লীগ না হওয়ায় চাঁদপুরের ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা। মাঠে নেই আগের সেই প্রতিযোগিতামূলক আবহ, গ্যালারিতেও নেই দর্শকের সেই সরব উপস্থিতি।

নিয়মিত জেলা ফুটবল লীগ না হওয়ায় চাঁদপুরের ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ বিরতি। ২০১৪ সালের পর ২০২৪ সালে একটি জেলা ফুটবল লীগ আয়োজন করা হলেও এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত আর কোনো জেলা ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে নিয়মিত জেলা লীগ আয়োজনের ধারাবাহিকতা ছিলো না।

আগে এক-দু বছর পরপর চাঁদপুরে জেলা ফুটবল লীগের আয়োজন করা হতো। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এসব লীগে জেলার বিভিন্ন ক্লাবের প্রায় ১০টি দল অংশগ্রহণ করতো। আবাহনী ক্রীড়া চক্র, মোহামেডান ক্লাব, নাজিরপাড়া ক্রীড়া চক্র, বিষ্ণুদী ক্রীড়া চক্র, ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়রা অংশ নিতেন এমন আয়োজনে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে জেলা ফুটবল লীগের ফাইনালে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে আবাহনী ক্রীড়া চক্র ও বিষ্ণুদী ক্রীড়া চক্র মুখোমুখি হয়েছিলো। ওই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো আবাহনী। এই আয়োজন শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা ছিলো না, ছিলো জেলার বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের মিলনমেলা, নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্র এবং ফুটবলপ্রেমীদের বিনোদনের বড় মাধ্যম ছিলো এ জেলা লীগ।

২০১৪ সালের পর নিয়মিত জেলা লীগ না হওয়ায় স্থানীয় ফুটবলারদের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না। কোনো একটি টুর্নামেন্ট বা বিচ্ছিন্ন আয়োজন দিয়ে একটি জেলার ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। এর জন্যে প্রয়োজন নিয়মিত জেলা লীগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, স্কুল-কলেজ ফুটবল এবং ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ।

চাঁদপুরের সাবেক ফুটবলারদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা— আগে জেলা লীগ নিয়মিত হওয়ায় ভালো খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেতেন। জেলা লীগের ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অনেক খেলোয়াড় পরবর্তীতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ফুটবলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। নিয়মিত লীগ না থাকায় সেই পথটিও সংকুচিত হয়ে গেছে।

চাঁদপুরের ফুটবলকে আবারও জনপ্রিয় করতে হলে শুধু একটি জেলা লীগ আয়োজন করলেই হবে না, বছরজুড়ে একটি পরিকল্পিত ফুটবল ক্যালেন্ডার তৈরি করা প্রয়োজন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা, উপজেলা পর্যায়ে বাছাই, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং এরপর জেলা লীগ আয়োজন করা গেলে একটি ধারাবাহিক খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া গড়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, আমরা যেনো পেছনের দিকে না তাকাই। এতো বছর কেন চাঁদপুরে ফুটবল লীগের আয়োজন করা হয়নি, কী কারণে হয়নি— সে বিষয়ে আমরা বলতে পারবো না। তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"

তিনি জানান, খুব শিগগিরই স্কুল ও ইন্টারমিডিয়েট কলেজভিত্তিক খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, "আমি যদি ক্রীড়া সংস্থায় এক বছর কাজ করার সময় পাই, তবে চাঁদপুরে ফুটবল খেলার জোয়ার বইয়ে দেবো।"

চাঁদপুরের ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, জেলা ফুটবল লীগকে নিয়মিত আয়োজনের আওতায় আনা হবে। শুধু বড় কোনো টুর্নামেন্ট নয়, জেলা ফুটবলের জন্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে। কারণ, একটি জেলা ফুটবল লীগ মানে শুধু ক'টি ম্যাচ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্থানীয় ক্লাব, খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, সংগঠক ও হাজারো দর্শকের প্রত্যাশা। নিয়মিত আয়োজন হলে মাঠে যেমন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে, তেমনি গ্যালারিতেও ফিরতে পারে দর্শকের সেই পুরোনো উচ্ছ্বাস।

একসময় যে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে দর্শকের ঢল নামতো, শহরজুড়ে হতো মাইকিং, অনেক সময় টিকিট বিক্রির প্রয়োজনও হতো, খেলা ঘিরে তৈরি হতো উৎসবের আমেজ— সেই চাঁদপুরে আবারও জেলা ফুটবল লীগের পুরোনো জৌলুস ফিরবে কি না এখন সেটিই দেখার বিষয়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়