শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৭২

২নং ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে কঠোর সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
২নং ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে কঠোর সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো

একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গঠনে যোগ্য ও সৎ জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। চাঁদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডকে সুশাসিত ও মাদকমুক্ত নাগরিক বান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আসন্ন পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মো. শাহজাহান গাজী। তিনি বর্তমানে চাঁদপুর পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মামলা-হামলার শিকার হয়েও যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ও সামাজিক সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের নানা চিত্র তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন শেখ আল মামুন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান? একই সাথে আপনার পরিচয় ও রাজনৈতিক পটভূমি সম্পর্কে কিছু বলুন।

মোঃ শাহজাহান গাজী : একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ার ক্ষেত্রে একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নির্বাচিত হলে সেই সুযোগটি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করতে চাই—এই উদ্দেশ্যেই আমার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত।

আমার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে বিশ্বাসী। আমি বর্তমানে চাঁদপুর পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে ২নং ওয়ার্ডের জন্য আপনার প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

মোঃ শাহজাহান গাজী : আমার প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার থাকবে : ১. ওয়ার্ডের সকল অধিবাসীর জন্য মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; ২. রাস্তাঘাট ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করা; ৩. নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

মো. শাহজাহান গাজী : সারাদেশে মতো চাঁদপুরেও মাদকের ভয়াবহ ছোবল যুবসমাজকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটিই আমাদের ওয়ার্ডের অন্যতম বড় সমস্যা। আমাদের প্রিয় নেতা, এই আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২নং ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে আমি কঠোর সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা অন্যান্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আপনাকেই কেন নির্বাচিত করবেন বলে আপনি মনে করেন?

মো. শাহজাহান গাজী : আমি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডে বসবাসরত সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। জটিল রোগীদের নিজ দায়িত্বে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া যে কোনো বিপদে-আপদে সাধ্যমতো তাদের পাশে থেকেছি। জনসেবার এই ধারাবাহিকতা আমার সবসময় ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমার বিশ্বাস, এই সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার কারণেই ভোটাররা আমাকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : শেষ মুহূর্তে পাঠকদের উদ্দেশ্যে বা দলের বিষয়ে আপনার অতিরিক্ত কোনো বক্তব্য আছে কি?

মোঃ শাহজাহান গাজী : স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মূলত আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। বিএনপি করার কারণে গত ১৭ বছরে আমার ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী ৩টি, মৎস্য আইনে ২০টি এবং ৩টি গায়েবি মামলাসহ মোট ২৬টি মামলা দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশ বাদী একটি মামলায় আমাদের নেতা শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইকেও আসামি করা হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে মামলার খরচসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে মানিক ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

রাজনীতি করার অপরাধে গত ১৭ বছরে আমার বসতবাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে, আমার মৎস্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতো ত্যাগের পরও আমি মাঠ ছাড়িনি। কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য আমি দীর্ঘ দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলীয় সমর্থন পেলে আমি নির্বাচনে লড়ব। তবে দল যাকে সমর্থন দেবে, আমি তাঁর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়