মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৭১

মহামায়া ও শাহতলীসহ সব বাজারের উন্নয়ন, মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে চাই

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
মহামায়া ও শাহতলীসহ সব বাজারের উন্নয়ন, মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে চাই

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন যুবনেতা ও তরুণ সমাজসেবক মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী। এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও ঐতিহ্যবাহী বিএনপি পরিবারে জন্মগ্রহণকারী মোস্তফা কামাল শিক্ষাজীবনে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান এবং মা রহিমা বেগম। এলাকার তরুণ ও সচেতন সমাজকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। একইসাথে মহামায়া বাজার ও শাহতলী বাজারসহ ইউনিয়নের সর্বস্তরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মডেল ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি জনতার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সম্প্রতি তাঁর এই নির্বাচনী ভাবনা, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন চাঁদপুর কণ্ঠের মহামায়া প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন (হৃদয়)।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও জনগণের জন্য আপনার স্বপ্ন কী?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : সর্বপ্রথম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমাকে আমার এলাকার মানুষের কাছে আমার চিন্তা, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য।

আমি একজন তরুণ ও শিক্ষিত মানুষ। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ (অনার্স)। আমার পিতা একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। মানুষের পাশে থাকা, মানুষের সমস্যা শোনা এবং সাধ্য অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা থেকেই আমি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

আমার স্বপ্ন হলো ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, নিরাপদ, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা। রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা ও বাজার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী বলে মনে করেন? ছোট-বড় সকল সমস্যার সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : আমার দৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজের উন্নয়ন প্রয়োজন। কোথাও রাস্তা সংস্কার, কোথাও নতুন রাস্তা, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। বিশেষ করে মহামায়া বাজার, শাহতলী বাজারসহ ইউনিয়নের ছোট-বড় বাজারগুলোর সার্বিক উন্নয়ন আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। বাজারের রাস্তা, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, আলো ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা উন্নত করার জন্য কাজ করতে চাই। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে রাস্তা, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়ন যেন শুধু কাগজে-কলমে না থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : আমি মনে করি জনপ্রতিনিধির প্রথম দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা যেন সাধারণ মানুষ সহজে ও হয়রানি ছাড়া পায়, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং জনগণের সামনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেবো। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সামাজিক অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ সমাজের জন্য বড় সমস্যা। এসবের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আমি নির্বাচিত হলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-ওলামা, যুবসমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে চাই। বিশেষ করে তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি নির্বাচিত না হলেও কি জনগণের পাশে থাকবেন? জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : অবশ্যই। মানুষের পাশে থাকার জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আমি একটি বিএনপি পরিবারের সন্তান। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে এবং আমি নির্বাচিত হই কিংবা না হই—আমার এলাকার মানুষের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করবো।

আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু নির্বাচনের সময়ের জন্য নয়। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকাই একজন সামাজিক মানুষের মূল দায়িত্ব।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ভোটাররা কেন আপনাকেই ভোট দেবেন? তাদের উদ্দেশে আপনার সংক্ষিপ্ত বার্তা কী?

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব চিন্তা ও পরিকল্পনা রয়েছে। আমি শুধু আমার কাজের পরিকল্পনা ও মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ববোধের কথা বলতে চাই। আমি একজন তরুণ হিসেবে নতুন চিন্তা, স্বচ্ছতা ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিতে চাই। জনগণ যদি আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো। আমার এলাকার মা-বোন, যুবসমাজ, প্রবীণ, শ্রমজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমার আহ্বান—আপনারা আমাকে দোয়া করবেন। আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা তুলে ধরতে পারেন।

মোস্তফা কামাল (সোহেল) হাজী : আমি আবারও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানাই। ৪নং শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের মানুষের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা—আপনারা আমাকে দোয়া করবেন এবং আমার জন্য শুভকামনা রাখবেন। আমি চাই আমাদের ইউনিয়ন হোক মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধমুক্ত একটি সুন্দর ইউনিয়ন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বাজার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

ইনশাআল্লাহ, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে সব সময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়