মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮

এর জন্যে দায়ী কি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ না ভবন মালিক?

অনলাইন ডেস্ক
এর জন্যে দায়ী কি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ না ভবন মালিক?

চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে দুই শিশুর গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঘটনা নিছক একটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছয় বছরের ফাইজা ও চার বছরের সাব্বিরের শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ার এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে-বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, নাকি ভবন মালিক?

একটি আবাসিক ভবনের বারান্দার এতো কাছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইন কীভাবে অবস্থান করছে, সেটিই প্রথমে খতিয়ে দেখা জরুরি। এমন উচ্চ ভোল্টেজের লাইন জনবসতি ও ভবনের এতো কাছে থাকলে নিরাপদ দূরত্ব, কারিগরি মানদণ্ড ও বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু সংযোগ দেওয়ার দায়িত্ব নয়; নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ।

অন্যদিকে ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যমান বৈদ্যুতিক লাইনের অবস্থান, নিরাপদ দূরত্ব ও নির্মাণবিধি মানা হয়েছিলো কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। ভবন মালিক বা নির্মাতা যদি জেনেশুনে ঝুঁকিপূর্ণ দূরত্বে বারান্দা নির্মাণ করে থাকেন, তাহলে সেই দায়ও কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। বিশেষ করে আবাসিক ভবনের এমন জায়গায়, যেখানে শিশুদের চলাচল স্বাভাবিক, সেখানে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা।

তবে দায় নির্ধারণের আগে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। শুধু ভবন মালিককে দায়ী করে অথবা শুধু বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো সতর্কতা দিয়েছিলো কি না, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, বৈদ্যুতিক লাইনটি নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্বে ছিলো কি না এবং ঝুঁকি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত ছিলো কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্তের ফল যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। যদি বিদ্যুৎ লাইনের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তা দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরানো বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

দুই শিশুর এই ভয়াবহ পরিণতি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য সেবা, কিন্তু নিরাপত্তাহীন বিদ্যুৎ অবকাঠামো মানুষের জীবনকে মুহূর্তেই বিপন্ন করতে পারে। তাই এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘দায়ী কে’ নয়; বরং ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা আর যাতে না ঘটে, তার দায়িত্ব কে নেবে?’—এই প্রশ্নেরও উত্তর চাই। শিশু দুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়