মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৫

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে চাঁদপুরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

শিক্ষকরা সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল

------জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
শিক্ষকরা সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। পাশে র‌্যালি।

'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছর'—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। এতে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল ১০টায় সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না, পড়াশোনার বাইরে তাদের সামাজিক শিক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সুন্দর আচরণ করতে হবে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা সমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল। জীবনের কথা চিন্তা করলে সবার আগে শিক্ষাজীবন ও স্কুলের শিক্ষকদের কথা মনে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষকদের কথা সারাজীবন মনে রাখবে। একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের চরিত্র, মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সবাইকে একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। সুন্দর আচরণ ও পারস্পরিক সম্মান সমাজে সুন্দর বন্ধন তৈরি করে। শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা যেমন শিখবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ভালো কিছু শেখার মানসিকতা শিক্ষকদের থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে শেখার সুযোগ করে দিতে ‘প্রকৃতি পাঠশালা’ চালুর বিষয়টি এসেছে। সেখানে প্রকৃতির মাঝে থেকে শিক্ষার্থীরা সামাজিক সম্প্রীতি, মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। চাঁদপুরে খুব শিগগিরই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এ আয়োজন শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে।

শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু একটি বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাঁদের প্রকৃত সম্মান তখনই দেয়া হবে, যখন আমরা তাঁদের দেখানো পথে চলবো এবং ভালো নাগরিক হিসেবে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবো। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা ইউনেস্কোর কর্মসূচির আলোকে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষকদের প্রতীকী মর্যাদা, পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান। শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রটোকলে স্বীকৃতি, শিক্ষানীতি নির্ধারণ এবং পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকের আর্থিক মর্যাদা এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে দেশের মেধাবীরা পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে নিতে পারেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন বা সিপিডি (কনটিনিউয়াস প্রফেশনাল ডেভলপমেন্ট) কার্যক্রম জোরদার এবং যুগোপযোগী প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, দেশকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে মোট জিডিপির কমপক্ষে ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশেই শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে কম বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। দেশের মাথাপিছু গড় আয়ের তুলনায় একজন শিক্ষকের মাসিক গড় আয় কম এবং দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের হার বাংলাদেশে ৫৫ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল হক ও আনোয়ারা ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউদ্দিন খন্দকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন মাসুম এবং গীতা পাঠ করেন প্রধান শিক্ষক অমর কৃষ্ণ শীল। অনুষ্ঠানে জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়