মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২

২১ বছরেও হলো না ভবন

সোলার প্যানেলের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ ফরিদগঞ্জ পৌরসভা

নুরুল ইসলাম ফরহাদ
সোলার প্যানেলের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের তালিকা থেকে বাদ ফরিদগঞ্জ পৌরসভা

দীর্ঘ ২১ বছরেও নিজেদের কোনো স্থায়ী ভবন তৈরি না হওয়ায় সরকারের ২০ লাখ টাকার বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা। নিজস্ব ছাদভিত্তিক অবকাঠামো না থাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ঘোষিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভাটি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর-২ শাখা) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ‘পৌরসভা উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীনে সোলার প্যানেল স্থাপনে অর্থ অবমুক্ত করেছে। এর আওতায় দেশের ২৯৩টি পৌরসভার মধ্যে ৫১টি পৌরসভা পাচ্ছে ৩০ লাখ টাকা করে এবং বাকি সবকটি ভবনসমৃদ্ধ পৌরসভা পাচ্ছে ২০ লাখ টাকা করে। তবে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় পুরো অর্থই হাতছাড়া হলো পৌরবাসীর।

অর্থ বিভাগের ২০০০ সালের ৩০ আগস্টের নির্ধারিত স্মারক বিধিমালা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের অধীনে পৌর ভবন, অডিটরিয়াম, ডাকবাংলো, হাটবাজার ও মার্কেটে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপসচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত এক সরকারি মঞ্জুরি চিঠি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার বরাবর পাঠানো হয়।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় যদি নিজস্ব ভবনে ছাদভিত্তিক এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতো, তবে পৌরসভার দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মেহেদী হাসান মানিক বলেন, "ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন নেই। মূলত সে কারণেই আমরা এই বিশেষ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যেসব পৌরসভার নিজস্ব ভবন আছে, তারা প্রত্যেকেই এ বরাদ্দ পেয়েছে।"

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে এটি ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হলেও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে নিজস্ব ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, সামান্য জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগে এটি ছিলো ১৩ নম্বর ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ। পৌরসভার তথ্যমতে, ডাকবাংলোর কাছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৪ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমি বা নতুন ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে গত দুই দশকে দায়িত্ব পালন করা কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি প্রশাসকই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেননি।

বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত একটি ভবনে কোনোমতে চলছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম। দীর্ঘ ২১ বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়া এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পেছনে সাবেক মেয়র ও প্রশাসকেরা দায় এড়াতে পারেন কি না—বর্তমানে সে প্রশ্নই তুলছেন ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়